কমিশনার (সিইসি) আবারো জানিয়েছেন, কিছু পৌরসভায় সীমিত আকারেই সেনা মোতায়েন করা হবে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুকের নেতৃত্বে বিএনপির একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল সোমবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সিইসির এটিএম শামসুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের ওই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সিইসির সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে জয়নাল আবদীন সাংবাদিকদের বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রতি পৌরসভায় আমরা সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছি।” সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমাদের সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হবে।” তবে বিএনপির প্রতিনিধিদলটি পৌর নির্বাচন নিয়ে কমিশনে লিখিত কোনো অভিযোগ জমা দেয়নি। বিএনপির ১২ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বৈঠক হয় সিইসির। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নির্বাচনে সবকটি পৌরসভায় সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। এ ধরনের কোনো পরিকল্পনাও কমিশনের নেই। কিছু পৌরসভায় সীমিত আকারেই সেনা মোতায়েন করা হবে।” সুষ্ঠুভাবে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে এ সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি। দেশের ২৬০টি পৌরসভায় আগামী ১২, ১৩, ১৭, ১৮ ও ২৭ জানুয়ারি এ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তফসিল ঘোষণা করা হলেও দুটি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত রয়েছে আদালতের আদেশে। গত ২ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়। এরপর ইসি চাইলে সেনা মোতায়েন করতে পারে বলে আওয়ামীলীগ মত দেয়। তবে এর প্রয়োজন নেই বলেও মনে করে ক্ষমতাসীন দল। এমন পরিস্থিতিতে গত ৮ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সীমিত আকারে কিছু পৌরসভায় সেনা মোতায়েন করা হবে। সিইসি তখন আরো জানান, সুনির্দিষ্ট ও লিখিত অভিযোগ ছাড়া এই নির্দলীয় নির্বাচনে কোনো দলীয় অভিযোগ কমিশন নেবে না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কমিশন তা যাচাই করবে।