বরিশাল

কে হচ্ছেন বরিশাল মহানগর আ.লীগের কাণ্ডারি

কে হচ্ছেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি? – এ প্রশ্নের উত্তরের ওপর নির্ভর করছে বরিশাল আওয়ামী লীগের অদূর ভবিষ্যৎ। বর্তমানে এক নেতার দলে পরিণত হওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ নিয়ে তাই আলোচনার শেষ নেই। পদটির দখলের লড়াইটাও বেশ জমজমাট। এছাড়া খুব শিগগিরই বরিশাল মহানগরের কমিটি ঘোষণা হতে যাচ্ছে- এমন খবরে যে যার ধারায় চালিয়ে যাচ্ছে লবিং-তদবির।

পদ প্রত্যাশী অন্তত এক ডজন নেতা নিয়মিত দুই গ্রুপের নিয়ন্ত্রক নেতাদের ধর্ণাও দিচ্ছেন। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ম্যানেজেও ওইসব নেতারা চালাচ্ছেন তোড়জোর চেষ্টা।

প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী বরিশাল সদর আসনের সংসদ (এমপি) জেবুন্নেছা আফরোজকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হিরন অনুসারী মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ পক্ষের বিপরীতে আছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অনুসারী জেলা আওয়ামী লীগ।

দুই পক্ষের বৈরিতা বর্তমানে এতোটাই চরমে যে, জাতীয় নানা দিবস এমনকি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পর্যন্ত পালিত হয় পাল্টাপাল্টি। সর্বশেষ এ বৈরিতার কারণে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকীও পৃথকভাবে পালিত হয়।

অবশ্য হিরন জীবিত থাকা অবস্থাতেই শুরু হয়েছিল এ বৈরিতা। কথিত আছে, জেবুন্নেছাকে নেপথ্যে শক্তি জোগাচ্ছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। পাশাপাশি এই শিবিরে রয়েছেন দক্ষিণের হাসানাতবিরোধী মন্ত্রী-এমপিরা।

অপরদিকে এই বিরোধিতা এড়িয়ে আবার নিজের নিরঙ্কুশ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন হাসানাত। বর্তমানে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ, এমনকি পুরো কমিটি নিয়ে যে আলোচনা তার মূল কারণও এটাই। কেননা যার লোক হবে মহানগরের সভাপতি তার হাতেই যাবে দলের নেতৃত্ব আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালে সাবেক সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট আফজালুল করিমকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। কিন্তু হিরনের মৃত্যুর পর আফজাল একাই সামলাচ্ছিলেন দল। তখনকার পরিস্থিতিতে অনেকটা অভিভাবকহীন ছিল হিরন অনুসারীরা। উপ-নির্বাচনে হিরনপত্নী বিজয়ী হলেও রাজনীতির মাঠে তেমন একটা সক্রিয় হতে পারছেন না। এমনকি কর্মী-সমর্থকদের মাঝেও নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। যে কারণে বর্তমানে হতাশায় রয়েছেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু তবুও সভাপতি পদ প্রত্যাশী জেবুন্নেছা আফরোজ।

অপরদিকে, জেবুন্নেছার পাশাপাশি এ পদটি পেতে আরো বেশ কয়েকজন নেমেছেন লড়াইয়ে। এদের মধ্যে আলোচিতরা হলেন- বরিশাল শহর আওয়ামী লীগের এক সময়কার সভাপতি সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের ব্যানারে সদর আসন থেকে সাংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, হাসানাত আবদুল্লাহর সহোদর খোকন আবদুল্লাহ, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রিন্টু, বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর এবং মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীরবিক্রম। সভাপতি পদের লড়াইয়ে থাকা নেতাদের নিয়ে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

সভাপতি পদ পূরণ নিয়ে এসব আলোচনার পাশাপাশি কেউ কেউ আবার চাইছেন বর্তমান এক নেতার কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে গঠিত হোক মহানগর কমিটি। এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা জাহিদ ফারুক শামীম এবং হাসানাত পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নামটি আলোচনায় থাকছে অগ্রভাগে। অবশ্য বরিশাল আওয়ামী লীগের একটি বৃহৎ অংশও চাইছে তাদেরকেই নেতৃত্বে দেখতে।

যদিও এখানকার দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, বরিশাল মহানগরের রাজনীতি নিয়ে খোদ দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তিনি বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এমনকি এখানকার খোঁজ-খবর জানতে কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্বও দিয়েছেন। তারা নিয়মিত কর্মী-সমর্থক এবং সবাদপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে ঐক্য ধরে রাখতে বরিশাল মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার বিষয়টি অনুমানে আনা হচ্ছে। আবার সেই কমিটিতে জাহিদ ফারুক শামীমকে আহ্বায়ক করা হতে পারে। যুগ্ম আহ্বায়ক তালিকার জন্য আলোচনায় রয়েছেন সাদিক আব্দুল্লাহ, জেবুন্নেছা আফরোজ এবং যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুনের নামটি।

এক্ষেত্রে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিমের ভাষ্য হচ্ছে- শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় চলছে মহানগর। পরবর্তীতে তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা মেনে নিয়েই রাজনীতি করব। সেক্ষেত্রে কেউ কিছু জোর করে চাপিয়ে দিতে পারবে না।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply