আর্কাইভ

ধ্বংসের পথে বরিশালের ক্ষুদ্র কুটির শিল্প “বিসিক”

বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল ॥ সময়ের বিবর্তণে আজ বিলীন হতে চলেছে বহু ত্যাগ তিতীার পর হওয়া ষাটের দশকে নির্মিত বরিশাল শিল্পনগরী বিসিক। পর্যাপ্ত মূলধন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা-বিদ্যুৎ ও পরিবেশগত বহুবিদ সমস্যার কারণে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে না বরিশাল ুদ্র ও কুটির শিল্পের (বিসিক)। সরকার ও তার পাশাপাশি ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা সহ অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সহায়তার হাত প্রসারিত করলে বরিশালকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল বিসিক কর্মকর্তারা। বেশিরভাগ শিল্প মালিকরা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছেন তাদের শিল্প কারখানা। বিপরীতে নতুন করে কোন প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠছে না। ফলে বেকার হয়ে পড়ছে বিসিকের সব শিল্প শ্রমিকরা।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৯৬০-৬১ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর লাকুটিয়া সড়কের পাশে ১৩০.৬১ একর জমিতে বরিশালের সম্ভাবনাময় কাঁচামালকে শিল্পে পরিণত করার উদ্দেশ্যে বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হয়। ওই সময় থেকে এ যাবৎ পর্যন্ত যে কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল তার মধ্যে ৪০টি চালু আছে পান্তরে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে ২৩টি কারখানা। না মরে বেঁচে আছে যেগুলো চালু আছে তার অর্ধেকর বেশি। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, খান সন্স টেক্সটাইল, খান বুটিক্স, বেঙ্গল বিস্কুট, অনন্যা ফাওয়ার মিল, সুগন্ধা ফাওয়ার মিলস লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি মিল কোনো রকম চালু আছে। অন্য কারখানাগুলো রুগ্নমূর্তিতে কঙ্কারসার প্রায়। ১৯৮৯ সালে প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়। ওই সময় থেকে এ যাবৎ পর্যন্ত যে কারখানা বা শিল্প গড়ে উঠেছিল তার মধ্যে ৪০টি চালু আছে এবং ২৩টি কারখানা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু আছে তাও না থাকার মত। কারখানা অনুসন্ধানে বিসিক নগরীর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হার, মানসম্মত কাঁচামালের অপ্রতুলতা, আধুনিক যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা, বাজারজাতকরণ সমস্যা, কর ও ভ্যাট নীতির প্রভাব, বৈষয়িক অজ্ঞতা, চোরাচালান, ডাম্পিং সমস্যা যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে বিসিক শিল্পের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। যে কারণে উৎপাদন থাকছে বন্ধ। অথচ মাস শেষে শ্রমিকদের বেতন ঠিকমতই গুণতে হয় কারখানা মালিকদের।

এদিকে রাইসা টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড, মমতাজ মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, খাজা ফাওয়ার মিলসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ২৩টি কারখানা সম্পর্কে বিসিকের স্টেট অফিসার জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো পুনরায় চালু হওয়ার কয়েক বছর পরে আর্থিক সংকটের কারণে পুনরায় মালিকরা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কাঁচামালের উপর ভিত্তি করে কারখানা চালু করার পর খুব একটা লাভবান না হওয়ার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিসিকের উপ-মহাবস্থাপক আবদুস সালাম ও বিসিক ট্রান্সপোর্টের সভাপতি সাজাহান জানান, উদ্যোক্তার অভাব এবং ব্যাংকের অনমনিয়তার কারণে বিসিকের রুগ্নতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠছে না। অথচ বরিশাল জেলায় মাছ, ধান, নারিকেল, সুপারি, আমড়া, পেয়ারা, কাঠ, চামড়া খরকুটা, আঁখ, হোগলা পাতা, পাইত্রা ডাল, বীজ, শাক-সব্জি, পান, বাঁশ, মরিচ, হলুদ ও পাটের মতো মহা মূল্যবান কাঁচামাল রয়েছে। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে সেমি-অটোমেটিক রাইস মিল, বেকারি, গরু ও হাঁস মুরগির খামার, মিনারেল ওয়াটার, আচার জাতীয় পণ্য, জুটমিল, সার কারখানা, নারিকেল তৈল, প্লাস্টিক পণ্য, ভেষজ ঔষধ, কসমেটিক্স স্টেশনারিসহ প্রায় ৩০/৪০ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। যা দ্বারা এ অঞ্চলের চাহিদা পূরণ এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

আরও পড়ুন

Back to top button