আর্কাইভ

স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যার হুমকি – বরিশালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে গত চারদিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছে কলেজ পড়ুয়া এক প্রেমিকা। প্রেমিকার অনশনঅনশন শুরুর পর পরই প্রেমিকের বাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে অনশনরত প্রেমিকা ও স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, বামরাইল ইউনিয়নের মোড়াকাঠী গ্রামের আব্দুল লতিফ রাঢ়ীর কলেজ পড়ুয়া কন্যা রিনা আক্তার রুমার সাথে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে একই ইউনিয়নের হস্তিশুন্ড গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হামিদ খন্দকারের পুত্র সোহেল রানার (২৫)। প্রেমের সম্পর্কে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সোহেল রানা ইতোমধ্যে রুমার সাথে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশায় লিপ্ত হয়ে পরে। রিনা আক্তার রুমা অভিযোগ করে জানান, গত একমাস পূর্বে বিয়ের দাবিতে সোহেলকে চাপপ্রয়োগ করা হয়। এরপর সে বিয়ে করতে নানা তালবাহানা শুরু করে। উপায়অন্তুর না পেয়ে অসহায় রুমা গত ১ ডিসেম্বর থেকে বিয়ের দাবিতে সোহেল রানার বাড়িতে অনশন শুরু করে।

অভিযোগে আরো জানা গেছে, বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য প্রভাবশালী সোহেল রানার ভাড়াটিয়া লোকজনে রুমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২ ডিসেম্বর সোহেলের খালাতো ভাই বদর উদ্দিন সিকদার অনশনরত রুমাকে মারধর করে ওই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়।

গতকাল রবিবার বিকেলে সরেজমিনে গেলে সরকারি গৌরনদী কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী প্রেমিকা রিনা আক্তার রুমা (২০) কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে প্রেমিক সোহেল রানার বাড়িতে বসেই আত্মহত্যা করবো। এ ব্যাপারে সে (রুমা) প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকুমার রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উল্লেখিত ঘটনায় রিনা আক্তার রুমার পিতা আব্দুল লতিফ রাঢ়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোল্লা জাকারিয়া মাসুদসহ অন্যান্যরা বিষয়টি মীমাংসা করে দিবেন বলে পুলিশকে আশ্বস্ত করেছেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »