আর্কাইভ

ক্ষোভে ফুঁসছে মেধাবী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা – ঝালকাঠি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক সমাপনীর ফলাফলে বৈষম্যের অভিযোগ

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠিঃ ঝালকাঠি জেলার একমাত্র সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ থেকে ২৫ রোল নাম্বারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলে বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যের শিকার মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এ ব্যাপারে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক সরদার মোঃ শাহ আলম ও জেলা প্রশাসক অশোক কুমারের নিকট ক্ষুদ্ব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এ  প্রতিকার প্রার্থনা করেছেন। তাদের পরামর্শে ক্ষোভে ফুঁসে উঠা ছাত্র ও অভিভাবকরা ২৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত এরশেদ এর নিকট অভিযোগ করেছে।

ক্ষুদ্ধু অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগে জানান, সোমবার ফলাফল প্রকাশের পরেই তারা দেখতে পান যে, তাদের সন্তানরা সব বিষয়ে ৮০ ভাগের বেশী নাম্বার পেলেও ইসলাম ধর্মে ৬০/৭০ ভাগ নাম্বার পাওয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ এসব ছাত্ররাই বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন পরীক্ষায় ৯০/৯৫ ভাগ নাম্বার পেয়েছিল। তাদের অভিযোগ ইসলাম ধর্ম বিষয়ের খাতা সঠিক ভাবে মূল্যায়ন না করার কারনে এশিক্ষার্থীরা দূর্ভগ্য জনক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। তাই তারা ইসলাম ধর্ম বিষয়ের খাতাটি পূনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন করেছে।

কয়েকজন অভিভাবকের সাথে আলাপকালে জানান, ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথেই তারা সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক মারুফা বেগেমের কাছে প্রতিবাদ জানালে তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কয়েকজন শিক্ষক তাদের জানিয়েছেন গত বছরও একই ভাবে মেধা তালিকার প্রথম ২৫/৩০ জন শিক্ষার্থী ধর্ম বিষয়ে নাম্বার বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। কিন্তু পুনঃমূল্যায়নের পর ৭/৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেতে সক্ষম হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, হিন্দু ধর্ম বিষয়ে শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ নাম্বার দেয়া হলেও ইসলাম ধর্ম বিষয়ে নাম্বার এতো কম দেয়ার বিষয়টি গ্রহনযোগ্য নয়। আসলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার খাতা দেখার সম্পূর্ন দায়িত্বই পালন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাই দুশ টাকা ফি দিয়ে তাদের খাতা পুনঃমূল্যায়ন করাতে বলা ছাড়া  তাদের কিছুই করার নেই।

এ ব্যাপারে জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত এরশাদ বিষয়টি দ্রুতো যাচাই করে দু’দিনের মধ্যে সমাধান দেবেন বলে অভিভাবকদের আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »