আর্কাইভ

অনলাইন সাংবাদিকতায় ব্যাপক বিকাশ হয়েছে

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছর ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন সাংবাকিতায় ব্যাপক বিকাশ হয়েছে। তাই চাহিদার আলোকে এবং গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পরে সঙ্গে আলোচনা করে অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম এন্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার (বিজেম) রাজধানীর কাটাবনস্থ কার্যালয়ে ‘গণমাধ্যমের গণতন্ত্রয়ান ও বিকাশ : একটি মূল্যায়ন’ শীর্ষক এ সেমিনারে শনিবার গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বিজেম’র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান সেমিনারে সভাপতিত্বে করেন। বিজেম’র নির্বাহী পরিচালক মির্জা তারেকুল কাদেরের সঞ্চালনায় মুখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, দৈনিক সকালের খবরের সহযোগী সম্পাদক কাজী আবদুল হান্নান, ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্মস এন্ড পাবলিকেশন্সের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ আহমেদ হালিম, মোহনা টেলিভিশনের কর্মকর্তা আনিস আলমগীর, দৈনিক ইনকিলাবের নগর সম্পাদক জাকারিয়া কাজল, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশনের কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, এক সময় সাংবাদিকরা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতো। কিন্তু বর্তমানে প্রফেশনাল ব্যক্তিত্বরা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করেন না- নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে অন্যখানে। পুঁজির জোরে পেশার বাইরের লোক গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চার ওপর মূলত গণমাধ্যমের গণতন্ত্রায়ন ও বিকাশ নির্ভর করে। রাজনীতিকরা বিরোধী থাকলে বলেন, সাহস করে সত্য কথা লিখুন। আর সরকারি দলে থাকলে বলেন, দায়িত্বশীলভাবে লিখুন। বর্তমানে এটাই কঠিন বাস্তবতা।

শত প্রতিকূলতার মধ্যেও গণমাধ্যম দেশ ও জাতির জন্য ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান বলেন, গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রয়োজন। তবে এখানে খেয়াল রাখতে হবে যে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ স্বাধীনতার অপব্যবহার নয়। এখানে স্বাধীনতার অর্থ হলো দায়িত্বশীলতা। তিনি মনে করেন যে, গণমাধ্যমের নীতিমালা হবে নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, অবাধ স্বাধীনতার অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য। বিশিষ্ট এই সাংবাদিক সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পরে সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বলেন, মিডিয়া অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনদাতা কর্পোরেট হাউজগুলোর কাছে নতজানু হয়ে পড়ছে। তবে বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিরাট এক অর্জন। এই আইন সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশিষ্ট এই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বলেন, এখন এই আইনকে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর সুফল জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে।

বিএফইউজে’র মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, গণমাধ্যমের মালিকানা অবশ্যই পেশাগতদের মধ্যে থাকতে হবে। বর্তমানে অনেকেই নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মিডিয়ার মালিক হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই গণমাধ্যমের মালিক হতে পারেন না। যিনি মিডিয়া বোঝেন না, গণতান্ত্রিক মনোভাব নেই- এমন লোক যেনো মিডিয়ার মালিক না হতে পারেন সেদিকে সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে।

পিআইবির মহাপরিচালক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নে বিকল্প মিডিয়া আসছে। তাই পরবর্তিত পরিস্থিতিতে এসবের উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জনস্বার্থে সাংবাদিকতাকে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, গণমাধ্যমে যেনো সবার কথা শোনা যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আর এটা নিশ্চিত করা গেলেই মিডিয়ার গণতন্ত্রায়ন হবে।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, গণমাধ্যমের গণতন্ত্রায়ন হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। দলবাজ সাংবাদিকতা বর্তমানে গণমাধ্যমের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে মিডিয়াগুলো বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরো বলেন, ভাল নির্বাচন হোক সরকার চেয়েছে বলেই মিডিয়াগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছে। গণমাধ্যম যে একটা ওয়াচডগ তা আমরা অনেক সময় ভুলে যাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সরকার ও সমাজ ব্যবস্থায় গণতন্ত্রায়ন প্রয়োজন।

সেমিনারে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলেন, গণমাধ্যমে গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে হলে সর্বাগ্রে রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্র চর্চার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে একে অপরের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন এবং পরমত সহিষ্ণু হতে হবে। তাহলে সমাজের অন্যান্য অংশের মত গণমাধ্যমেও গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত হবে।

আজকের বাংলা

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »