আর্কাইভ

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের অভিযোগ – সরকারি দলের দু’গ্রুপের হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় গৌরনদী থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ টেন্ডার গুছ করাকে কেন্দ্র করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরকারি দলের দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) রাতে গৌরনদী থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা সৈকত গুহ পিকলু বাদি হয়ে গৌরনদী পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ হারিছুর রহমান হারিছ, ঠিকাদার মোঃ আলাউদ্দিন ভূইয়াসহ আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ২২ নেতা-কর্মীকে আসামি করে এবং উপজেলার বিশিষ্ট ঠিকাদার মোঃ আলাউদ্দিন ভূইয়া বাদি হয়ে মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা সৈকত গুহ পিকলুসহ যুবলীগের ১২ নেতা-কর্মীকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দু’টি দায়ের করেছেন।

গৌরনদী থানায় দাখিলকৃত ইউপি চেয়ারম্যান পিকলুর এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা তহবিল এডিপি ২০১১-২০১২ অর্থবছরের সাতটি ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত ৬৫ লাখ টাকার অধিক অর্থ দ্বারা উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্র“য়ারি কাজের সিডিউল ফরম বিক্রির শেষদিন থাকলেও ১নং বিবাদী গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ গুজের মাধ্যমে টেন্ডারবাজি করে অধিকাংশ কাজ বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দেয়।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সৈকত গুহ পিকলুসহ গৌরনদী উপজেলার সাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান ২০১১-২০১২ অর্থবছরের এডিপির ৬৫ লাখ টাকার কাজ কিভাবে দেয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট উত্তর চাওয়া হলে তিনি কোন জবাব না দিয়ে চেয়ারম্যান পিকলুর সাথে বাকবিতন্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১নং বিবাদী দরখাস্তে উল্লেখিত লোকজন নিয়ে লাঠিসোঠা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসের দোতালায় উঠে সভাকক্ষসহ ইউএনও অফিসের একাধিক দপ্তর ভাংচুর করে এবং ১নং আসামির নির্দেশে অন্যান্য আসামিগনসহ অজ্ঞাতনামা আরো প্রায় ৫০/৬০ জন লোকজনে উপজেলা কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় তান্ডব লীলা চালাতে থাকে। হামলাকারীরা সাতটি মোটর সাইকেল ভাংচুরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৩ জন কর্মীসহ ৪ জন পথচারীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এতেও আসামিরা ক্ষ্যান্ত না হয়ে বাসষ্ট্যান্ডের যুবলীগের অফিস ভাংচুর ও লুটতরাজ করে। এসময় আসামিরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ ফজলুল হক মনি ও সাবেক চীফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছবি ভাংচুরসহ পদাদলিত করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে বিশিষ্ট ঠিকাদার ও আশোকাঠী ফিলিং ষ্টেশনের স্বত্তাধীকারি আলাউদ্দিন ভূইয়া তার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে ১নং বিবাদী ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর নেতৃত্বে ১৫/১৬টি মটরসাইকেল নিয়ে ২০-২৫ জন বিবাদী ফিলিংশ ষ্টেশনে প্রবেশ করে। তারা সবকটি মটরসাইকেলে ১৬০ লিটার জ্বালানী তৈল ভরে টাকা না দিয়ে রওনা দেয়। এসময় ম্যানেজার খোকন ও অপারেটর নুরআলম টাকা চাইলে বিবাদীরা কর্মচারীদের পিটিয়ে আহত করে পাম্পের ক্যাশে থাকা ৬০ হাজার টাকা, হিসাবের খাতাপত্র ও চাবি লুট করে পাম্পটি বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম জানান, অভিযোগ দুটিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলো যাচাই বাছাই করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »