আর্কাইভ

ডায়বেটিস

ডায়বেটিস (বহুমূত্র) রোগ হলে যা হয়, তা হলোঃ আপনার খাদ্যের সাথে গ্রহণ করা গ্লুকোজ শক্তি উতপাদনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত না হয়ে রক্তের মধ্যেই থেকে যায়। তখন শরীর রক্তে মিশে থাকা এই অতিরিক্ত গ্লুকোজকে প্রস্রাবের সাথে বের করে দেয়।

প্রধান উপসর্গসমূহের মধ্যে যেগুলো সাধারণত দেখা যায়ঃ

– ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, বিশেষ করে রাতে।
– ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়া।
– খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া।
– হঠাৎ করে দ্রুতহারে ওজন হ্রাস পাওয়া।
– যৌনাঙ্গে চুলকানি এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশান দেখা দেয়া।
– শরীরের কোথাও কেটে ছিড়ে গেলে, খুব আস্তে ধীরে ক্ষত শুকানো।
– ঝাপসা দৃষ্টি।

ডায়বেটিস ২ রকম।

টাইপ ১ ডায়বেটিস খুব দ্রুত উপসর্গ দেখায় এবং খুব দ্রুত ডেভেলপ করে, সাধারণত সপ্তাহ দুই-তিনেকের মধ্যে। উপসর্গগুলো তাড়াতাড়ি চলেও যায় যদি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।

টাইপ ২ ডায়বেটিস খুব ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে, কয়েক বছর ধরে। কেবলমাত্র নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ করানোর মাধ্যমেই তা ধরা পড়া সম্ভব। নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখলে উপসর্গগুলো দূর করা সম্ভব।

আপনি কি উপরের দুই/ততোধিক উপসর্গ টের পাচ্ছেন? তবে আজই আপনার ডাক্তারের কাছে গিয়ে মেডিক্যাল চেকআপ করান। প্রাথমিক পর্যায়ে শণাক্ত করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা। চিকিৎসা এবং নিয়ন্ত্রণ রাখলে ভয়াবহ পর্যায়ের ডায়বেটিস এর আশংকামুক্ত থাকতে পারবেন।

ইদানীংকালে শারীরিক কর্মকাণ্ড (খেলাধুলা, ব্যায়াম ইত্যাদি) কমে যাওয়ার কারণে অনেক অল্পবয়সী শিশু-কিশোরদেরও ডায়বেটিস হচ্ছে। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড (বার্গার, স্যান্ডউইচ, পিজা, শর্মা, চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাইজ ইত্যাদি), কোমল পানীয় এবং চকলেটসহ যেকোনো মিষ্টি খাবারেই ডায়বেটিসের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এগুলো থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখুন এবং তাদের এসব খেতে নিরুৎসাহিত করুন, সহজ ভাষায় এর অপকারিতা বর্ণনা করুন। ঘরের খাবার খাওয়ার অভ্যেস করুন। এবং প্রতিদিনের খাবারের চার্টে প্রচুর সবজি রাখুন।
নিজে নিয়ম করে দিনে অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন, সাথে আপনার সন্তানকেও বলুন আপনার সাথে যোগ দিতে। আপনার উৎসাহই পারে তাদের সুস্থ রাখতে।

বাসায় একটি ডায়বেটিস পরিমাপের যন্ত্র কিনে নিতে পারেন, যাকে ইংরেজিতে বলে গ্লুকোমিটার। ইদানীং বাজারে সস্তায় এগুলো পাওয়া যায়। নিয়ম করে, মাসে অন্তত একবার পরিবারের সবার ডায়বেটিস পরীক্ষা করুন।

অনেক ডায়বেটিস রোগীকেই দেখা যায় নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন নিতে। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না! পুণরায় বলছি,

ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না!

যাদের ইতোমধ্যে ডায়বেটিস আছে, এবং যারা প্রেস্ক্রাইবড ইনসুলিন নিচ্ছেন, তারা দীর্ঘসময় ধরে খালি পেটে থাকবেন না। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজ খুব বেশি কমে যাওয়া) হয়ে যেতে পারে যার ফলাফল খুব একটা সুখকর নয়।

নিয়ন্ত্রণ! নিয়ন্ত্রণ!! নিয়ন্ত্রণ!!!

এটাই হচ্ছে বহুমূত্র রোগকে পরাজিত করার মূলমন্ত্র।

আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনায়,
স্বাস্থ্যকথন টীম

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »