আর্কাইভ

আবুল হোসেনের সৌভাগ্য বনাম পদ্মা সেতুর দুর্ভাগ্য

গোলাম মাওলা রনি, এমপি ॥ সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম আমি প্রথম শুনি প্রয়াত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ ও নির্মল সেনের কাছে। ১৯৮৭ সালের এপ্রিল মাসের কোনো এক সন্ধ্যায় তোপখানা রোডের রাজনৈতিক অফিসে তারা আমাকে আবুল হোসেনের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ফরিদপুর দর্পণ নামে একটি পত্রিকা তখন আমি বের করতাম। বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার নামকরা লোক এবং একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনের জন্য আমার চেষ্টা ছিল নিরন্তর। যদিও কখনো তার কাছে যাওয়া হয়নি কিন্তু দয়া-দাক্ষিণ্যের সুনাম এবং ব্যবসায়িক সফলতার জন্য তাকে আমি আদর্শ মনে করতাম। সংসদ সদস্য হওয়ার পর তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাকে অন্যান্য এমপির সঙ্গে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। সত্যি বলতে কি, প্রথম সাক্ষাতেই তার অনাড়ম্বর ব্যবহার, আন্তরিকতাপূর্ণ আতিথেয়তা এবং সরল স্বীকারোক্তিতে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ভাবছিলাম, মাদারীপুর জেলায় কালকিনি উপজেলার ডাসার গ্রামে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রামে লেখাপড়া শুরুর মাধ্যমে কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তার উপাখ্যান নিয়ে। শত সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতার পর পরই তিনি ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন মুহসীন হলে। প্রথমদিকে সাইকেল চালাতেন। পরতেন সাদা রংয়ের পাজামা এবং সাদা হাফ শার্ট। সাইকেলটিকে হলের নিচে তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখতেন। কম-বেশি সবাই জানতেন এটা আবুল হোসেনের সাইকেল। ছাত্রাবস্থায় তিনি চাকরি ও ব্যবসা শুরু করেন। সফলতা এবং সৌভাগ্য তাকে ধরা দেয়। রাতারাতি মোটরসাইকেল কিনে ফেলেন এবং একই সঙ্গে রুমের জন্য একটি টিভিও। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। হলের ছেলেরা তার রুমে টিভি দেখতে আসত এবং অনেকে তার মোটরসাইকেলেও চড়ত। ফলে আবুল হোসেনকেন্দ্রিক একটি বন্ধুত্বের বলয় তখন গড়ে উঠেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোহাম্মদ মুহসীন হলে।

আবুল হোসেনের প্রতি আমার ব্যক্তিগত দুর্বলতা ও বিমুগ্ধতার কারণেই আমি চাইতাম তিনি যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে সফলতা লাভ করুন। ফলে প্রথমদিকে আমি যেসব বিষয়ে তার ত্রুটি দেখতাম যেসব বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য রাখতাম কমিটি মিটিংগুলোতে। সমালোচনা করতাম, উপদেশ দিতাম এবং ক্ষেত্রবিশেষে তর্কও হতো। আজ আফসোস হয়_ ‘আহা তিনি যদি কথাগুলো শুনতেন!’ কিন্তু তিনি শোনেননি কিংবা আমলারা তাকে শুনতে দেননি। অথবা পৃথিবীর তাবৎ সব মানুষের মতো তিনি হয়তো তার সমালোচনা শুনতে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।

আমি তাকে প্রায়ই বলতাম_ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো ত্বরিত মেরামতের জন্য। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে তাদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিতাম। পদ্মা সেতুর ব্যাপারে আমি একাধিকবারই বলেছিলাম, বিশ্বব্যাংক আমাদের টাকা দেবে না। পারলে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করুন এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বব্যাংকের বাস্তব মনোভাব অবহিত করুন; বড় বড় প্রকল্পের বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন রুটিন ওয়ার্কগুলো শেষ করুন। তাকে সতর্ক করেছিলাম তার আশপাশে থাকা ঈর্ষাপরায়ণ সহকর্মীদের সম্পর্কে। এগুলো সবই বলেছিলাম আজ থেকে তিন বছর আগে যখন সবাই আশা করত আবুল হোসেন অবশ্যই পারবেন। আমিও তার সফলতার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম। ছিলাম এ কারণে যে, তিনি নিয়মিত সবার আগে অফিসে আসতেন, বদলি বাণিজ্য করতেন না, সব কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি টিমওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।

কর্মকর্তাদের সম্মান করতেন। প্রয়োজনে সব কর্মকর্তার রুমে যেতেন এবং সকাল-বিকাল ছোটাছুটি করতেন প্রয়োজনীয় সব দফতরে। বৃহত্তর যোগাযোগ মন্ত্রণালয় তথা রেল বিভাগ, বিআরটিএ, বিআরটিসি, সেতু বিভাগ, সড়ক ভবনের সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফেরি বিভাগ এবং সর্বোপরি ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের যে বেইজ ওয়ার্ক তা কিন্তু আবুল হোসেনই করে গেছেন। এসব বিভাগ ও অনুবিভাগের বিশাল কর্মযজ্ঞের সমন্বয়, আগামী দিনের কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং ক্ষেত্রবিশেষে মহাপরিকল্পনা তার নেতৃত্বেই করা হয়েছে। আগামী দিনের কোনো কৃতজ্ঞ যোগাযোগমন্ত্রী এগুলো অস্বীকার করতে পারবেন না। এর পরও আবুল হোসেনকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরে যেতে হয়েছে। এর কারণ কি? আমার মনে হয় তার কতিপয় অভিব্যক্তি, অতিরিক্ত অরাজনৈতিক সরলতা, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, অর্থমন্ত্রীর অসহযোগিতা এবং দুর্নীতিবাজ আমলাদের খপ্পরে পড়া ইত্যাদি অন্যতম।

অভিব্যক্তির মধ্যে তার Smiling Face বা হাস্যময় মুখচ্ছবি শেষের দিকে অনেকের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এটা এমন একটি বিষয় যে, এ ব্যাপারে একান্ত আপনজন হয়েও কাউকে সতর্ক করা যায় না। এর পরও আমি একাধিকবার তাকে সতর্ক করেছিলাম। সতর্ক করেছিলাম নিজির তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে। আমার নিজের মুখেও সব সময় হাসি লেগে থাকে। আমি চেষ্টা করেও বেশিক্ষণ মুখ কালা করে থাকতে পারি না। এ কারণে আমি অনেক দুর্ভোগ ও বদনামের শিকার হয়েছি। বিশেষত আমার স্ত্রী যখন রেগে যায়, তখনো আমার হাসি পায়। একবার এক সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছিলাম। অনেকে আহত হলো, বাস খাদে পড়ে গেল কিন্তু আমার বড্ড হাসি পেল। দৌড়ে নিকটস্থ শস্য খেতে গিয়ে একপেট হাসলাম। নৌ দুর্ঘটনার মধ্যেও আমার একবার হাসি পেয়েছিল। বড় বড় ঢেউয়ের তাণ্ডব দেখে ছেলেমেয়ে, বুড়া-গুঁড়া সবাই কান্না শুরু করল। কাঁদলে একেকজন একেক রকম মুখভঙ্গি করেন। চিৎকারের শব্দও ভিন্ন। কান্নার ফাঁকে ফাঁকে আবার দোয়া-দরুদ। আমি হাসি থামাতে পারলাম না। বিক্ষুব্ধ লোকজন সেদিন আমাকে লঞ্চ থেকে ফেলে দিতে চেয়েছিল। আমার হাসির সবচেয়ে অসম্মানজনক প্রতিদান পেয়েছিলাম যখন আমি মাধ্যমিক স্তরে পড়তাম। আমি যে সব সময় মুচকি মুচকি হাসতাম তা মেয়েরা একদম দেখতে পারত না। তারা আমাকে একটি উপাধি দিয়েছিল, যা আমি আমার স্ত্রীর কাছ থেকে শুনি। অথচ এই একই হাসি দিয়েই আমি অনেক কিছুই জয় করেছি। গত নির্বাচনে আমার হাসি হাসি মুখ অনেক ভোটারকে বিমুগ্ধ করেছিল এবং একই সঙ্গে আকৃষ্ট করেছিল। এখন হাসিটি আমার সম্পদ এ কারণে যে, আমি এটিকে স্থান, কাল ও পাত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় উপস্থাপন করি।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। আবুল হোসেনের সফলতা এবং পদ্মা সেতুর দুর্ভাগ্য। প্রধানমন্ত্রী একজন সফল ব্যক্তি, একজন সফল উদ্যোক্তা এবং একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় সংসদ সদস্যকে যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেন। প্রধানমন্ত্রী যেমনি আশ্বস্ত হয়েছিলেন তেমনি আমরাও মনে করেছিলাম আবুল হোসেন সফল হবেন। কিন্তু এই সফলতার পথে হাঁটতে গিয়ে তিনি বড্ড আবেগতাড়িত হয়ে তাড়াহুড়া করেছিলেন। প্রতিটি বিষয় যেহেতু তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে করতেন সেহেতু সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন অতিমাত্রায় আত্দবিশ্বাসী। এই অতিরিক্ত আত্দবিশ্বাসই তার কাল হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি অনেক কিছুতেই রুলস অব বিজনেস মানতেন না। যেমন দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তিনি সরাসরি যোগাযোগ করতেন। অর্থমন্ত্রীর প্রবল আপত্তি ছিল এতে। ফলে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ফাইল চালাচালি শুরু হয়। ফলে অনৈক্য, তিক্ততা এবং ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে থাকে। আবুল হোসেন এ সময় পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের প্রকল্প, এলিভেটেড এঙ্প্রেস ওয়ে, পাতাল রেল ইত্যাদি প্রকল্প নিয়ে এতটাই গলদঘর্ম যে, কোন ফাঁকে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-বরিশাল এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে সেদিকে খেয়াল দিতে পারেননি। এরই মধ্যে সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে আবুল হোসেন তখন এক দুর্বিষহ অসহায় জীবন কাটাচ্ছিলেন। মাত্র পাঁচ-ছয়শ কোটি টাকার মেরামতের কাজের জন্য তিনি যে এত বিপদে পড়বেন তা ছিল কল্পনার অতীত। অর্থ মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধবাদীরা অত্যন্ত সুকৌশলে অর্থ ছাড়ে অহেতুক দেরি করার জন্য তিনি অযাচিত বিপদে পড়েন। চারদিকে আবুল হটাও, আবুল হটাও রব উঠতে থাকে। ঠিক এ সময়েই আমিও নির্বোধের মতো টেলিভিশনের টকশোতে একটি দৌড়ের গল্প বলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে ফেলি। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক শেষ চালটি চালে। তারা আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে। সাড়ে তিন বছর এই মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিতে কাজের অভিজ্ঞতায় বর্তমান সরকারের প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের অসহযোগিতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে অসৌজন্যমূলক আচরণ আমাকে আহত করেছে। আমি দেখেছি, সরকারের ভেতরে বিশেষ করে উচ্চ পদস্থ আমলাদের ভেতরে অনেকেই বিশ্বব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তাদের এজেন্ট রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে, সুশীল সমাজে, সাংবাদিক মহলে এবং কূটনৈতিক মহলে। কেবল সরকারকে বিব্রত করার জন্য বিশ্বব্যাংক যে দুর্নীতির অভিযোগ আনল আমরা কেউ তার বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর উঁচু করতে পারলাম না। চক্রান্তকারীদের বিষময় সমস্বরে জাতীয় মানমর্যাদা ধুলোয় লুটিয়ে পড়ল এবং এর কোরবানিতে কাটা পড়লেন আবুল হোসেন। এ লেখার মূল প্রতিপাদ্য পদ্মা সেতুর ইতিবৃত্ত ও ভবিষ্যৎ। আবুল হোসেন প্রসঙ্গক্রমে এসেছেন। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি পদ্মা সেতুর ফাঁদে ফেলে বিশ্বব্যাংক মহলবিশেষের ইন্ধনে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। অক্টোপাসের মতো সরকারের সফল বৈদেশিক অর্থায়নমুক্ত কর্মকাণ্ড স্তব্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাদের এ কাজে সহযোগিতা করছে এদেশেরই কতিপয় কুলাঙ্গার। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ইস্যুটি ভৌতিক। এর কোনো অস্তিত্ব নেই। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে অর্থাৎ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ। ভূমি অধিগ্রহণ যথানিয়মে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ব ব্যাংক লিখিতভাবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছে। এর পর যে কাজটি হয়েছে তা হলো সেতুর ডিজাইন বা নকশা চূড়ান্তকরণ। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা এবং তাদের মনোনীত কনসালট্যান্টরা সেতু বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কাজ করে এর নকশা চূড়ান্ত করেছে। এখানে মন্ত্রী, সংসদীয় কমিটি কিংবা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কিছুই করার ছিল না। এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পরীক্ষা করার অধিকারও বিশ্বব্যাংক আমাদের দেয়নি। প্রকল্পের তৃতীয় ভাগে ছিল সেতুর তদারককারী কনসালট্যান্টদের একটি তালিকা করে তা বিশ্বব্যাংকের হেড অফিসে পাঠানো, যা কিনা গ্রহণ, পরিমার্জন ও বাতিল করার ক্ষমতা বিশ্বব্যাংকের। পরবর্তীতে সেই তালিকা অর্থাৎ কনসালট্যান্টদের প্রি-কোয়ালিফাইড তালিকার ভিত্তিতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় টেন্ডারের মাধ্যমে যে কোনো একজন বা একাধিককে নিয়োগ দিত। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কেবলমাত্র বিশ্বব্যাংকের ফর্মুলা অনুযায়ী কতিপয় কনসালট্যান্টের নামের তালিকা পাঠিয়েছে মাত্র। আর এই তালিকার মধ্যে দুর্নীতি হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন স্থগিত করে।

আসলে আমরা গরিব দেশ বলেই বিশ্বব্যাংক একটি বায়বীয়, ভিত্তিহীন অমূলক এবং বাস্তবতাবিবর্জিত বিষয়ে অভিযোগ তোলার সাহস পেয়েছে। অন্য কোনো মধ্যম আয়ের দেশ হলে তারা এতদিন বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে দিত। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ কোনো কিছু না বুঝেই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাচ্ছে। সরকারবিরোধীরা বড় গলায় সরকারের সমালোচনা করছে। অথচ এটা কোনো আবুল হোসেন কিংবা আওয়ামী লীগ সরকারের বিষয় নয়। এটা একটি জাতীয় মর্যাদার বিষয়। সরকারকে ছোট করতে গিয়ে আমরা মূলত জাতি হিসেবে নিজেদের ছোট করে ফেলছি এবং বিশ্বব্যাংক নামক সাম্রাজ্যবাদের মুখপাত্রের কাছে নিজেদের ভিক্ষুক হিসেবে উপস্থাপন করছি।

পাদটীকা : আমার মনে হচ্ছে পদ্মা সেতুর দুর্ভোগ সহজে কাটবে না। বিশ্বব্যাংক টাকা দেবে না। মালয়েশিয়া বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গেও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা এগুবে না। একমাত্র পথ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন। এ ক্ষেত্রে সেতু বিভাগের নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের ম্যানেজারিয়ালে অতি সত্বর কাজ শুরু করা যেতে পারে। এ বছর বাজেটে তিন হাজার কোটি টাকা পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পিপিপির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও সেতুর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ আমাদের নিজস্ব সক্ষমতায়ই সেতুর কাজ শুরু এবং শেষ করা সম্ভব। মূল সেতুর কন্ট্রাক্টর এবং কনসালট্যান্ট আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে গ্রহণ করলে এক্ষেত্রে অসুবিধা কি? কিন্তু আজ মালয়েশিয়া, কাল চীন, পরশু রাশিয়ার সঙ্গে কথা বললে পদ্মা সেতুর দুর্ভোগের ঘনঘটা বাড়তেই থাকবে

লেখক : রাজনীতিক
খবর : বাংলাদেশ প্রতিদিনের সৌজন্যে

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »