সংযোগ সেতুর কারনে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পয়সারহাট সেতু জনসাধারনের কাজে আসছেনা

গৌরনদী ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট নদীর ওপর প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নির্মিত পয়সারহাট সেতু নির্মান কাজ বিগত দু’বছর পূর্বে সম্পন্ন হয়েছে। জনগুরুতপূর্ণ বড় সেতুটি নির্মান হলেও সংযোগ সেতু নির্মান না হওয়ায় আগৈলঝাড়াসহ কোটালীপাড়া এলাকার হাজার-হাজার জনসাধারনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংযোগ সেতু নির্মান না হওয়ায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি জনসাধারনের কোন কাজেই আসছেনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৮ টি পিলারের সমন্বয়ে পয়সারহাট নদীর ওপর সেতু নির্মানের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা। এছাড়া সংযোগ সড়কের জন্য ভূমি অধিগ্রহনসহ ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের দেয়া হয়েছে ১ কোটি টাকা। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৬০ দশমিক ৪০ মিটার এবং
ফুটপাথ ও রেলিংসহ প্রস্থ ১০ মিটার। খান এন্ড সন্স গ্রুপের সহযোগিতায় রহমান ফাউন্ডেশন কন্সোর্টিয়াম নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করে। উক্ত সেতুটি নির্মাণের জন্য বিগত ২০০০ সালে প্রথম কাজ শুরু হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নানা প্রতিকুলতা অতিক্রম করে সেতুটির কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নির্মাণ সংস্থার সাইট ইঞ্জিনিয়ার পরিমল মিত্র জানান, রড-সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেশী হওয়ার পরেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়ে গত ২০০৮ সালে সেতু নির্মান কাজ সম্পন্ন করে।
পয়সারহাট বন্দরের ব্যবসায়ী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইউব আলী মিয়া বলেন, পয়সারহাট সেতুটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হলে বরিশালের সাথে যশোর-খুলনার দূরত্ব প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার কমে যাবে। পয়সারহাট সেতুর পশ্চিম পাড়ে একটি সংযোগ সেতুর কাজ অসমাপ্ত থাকায় পয়সারহাট সেতুটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও উদ্বোধন করা যাচ্ছে না। পয়সারহাট বন্দরের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসি অচিরে পয়সারহাট সেতুর সংযোগ সেতুর কাজ সম্পন্ন করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছেন।