বরিশালের উন্নয়নে আয়মান রাহাতের বহুমুখী অবদান

বরিশাল বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলে বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। এই উন্নয়নের নেতৃত্বে রয়েছেন মো. আয়মান হাসান রাহাত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ আয়মান রাহাত বর্তমানে একজন গবেষক, লেখক ও পরিকল্পনাবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দায়িত্ব পালনকালে বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত হয়েছে একাধিক বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচি, যা স্থানীয় অর্থনীতি, সামাজিক অবকাঠামো ও জনজীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার
ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে চার ধাপে বাস্তবায়িত একটি বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১২৬টি মসজিদ সংস্কার ও আধুনিকায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে দুই কোটিরও বেশি টাকা। মসজিদের পাশাপাশি ঈদগাহ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান এবং গণকবরস্থানও উন্নয়নের আওতায় আনা হয়েছে।
এই প্রকল্পের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকা মসজিদগুলো নতুন রূপ পেয়েছে। ছাদ সংস্কার, ওজুখানা নির্মাণ, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবস্থা এবং আলো-বাতাসের উন্নত ব্যবস্থার মাধ্যমে উপাসনালয়গুলো আরও ব্যবহারবান্ধব হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জনগণ এ উদ্যোগকে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে দেখছেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় ৪০ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরনো সড়কের সংস্কার, সেতু মেরামত এবং কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সহজে পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন। উৎপাদন খরচ কমে আসায় কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি এসেছে।
নিরাপদ পানি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মানবিক উদ্যোগ
মুলাদী উপজেলার দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০০ পরিবারের জন্য একটি আধুনিক পাম্প হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। এই পাম্প হাউস থেকে সরাসরি পরিবারভিত্তিক বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ফলে পানিবাহিত রোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। স্থানীয় জনগণের কাছে এই প্রকল্পটি একটি মানবিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রীড়া খাতে বিপ্লবী উদ্যোগ, ৩০৮ কোটির মেগা প্রকল্প
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরিতে ক্রীড়া খাতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল বিভাগে ২২টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
এছাড়া ৩০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুটবল, ভলিবল, দাবা সেটসহ আধুনিক ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং একাধিক খেলার মাঠ সংস্কার করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এক হাজার কোটির মিশন
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল জেলার মুলাদী, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, উজিরপুর, বানারীপাড়া সহ প্রায় সব উপজেলায় ১ হাজার ৪০ কোটি টাকার বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর পাশাপাশি মুলাদী ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত ৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
এই প্রকল্পগুলো গ্রামীণ যোগাযোগ, বাজার ব্যবস্থা এবং জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নদী শাসন ও ভাঙন প্রতিরোধে দূরদর্শী পদক্ষেপ
বরিশাল অঞ্চলে নদী ভাঙন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। রামারপোল লঞ্চঘাট ও আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষায় ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নদী বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোকে নিরাপত্তা দিচ্ছে।
আধুনিক ও সমৃদ্ধ বরিশালের স্বপ্নদ্রষ্টা
মো. আয়মান হাসান রাহাত আধুনিক, টেকসই ও সমৃদ্ধ বরিশাল গড়ার একজন স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত এই বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী উন্নয়নভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




