হুমকির মুখে এলাকা ছেড়েছে অসংখ্য পরিবার
সর্বহারা সন্ত্রাসী মোতায়েনের পর সংখ্যালঘুদের জমি জবর দখল করে মৎস্য ঘের তৈরি
খোকন আহম্মেদ হীরা, গৌরনদী থেকে ॥ সর্বহারা সন্ত্রাসীদের মোতায়েন করে প্রভাবশালী এক ভূমিদস্যু কর্তৃক সংখ্যালঘুসহ দিনমজুরদের জমি জবর দখল করে মৎস্য ঘের তৈরী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ওই প্রভাবশালী অসহায় পরিবারদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করে হয়রানি করে আসছে। প্রভাবশালীর ভাড়াটিয়া সর্বহারা সন্ত্রাসীদের হুমকি ও পুলিশি গ্রেফতার আতংকে সংখ্যালঘুসহ অসহায় দিনমজুর পরিবারের সদস্যরা এখন বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত শিবপুর গ্রামের।ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতারণার ব্যবসা করে অল্পদিনেই অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক হন পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার চর মাঠিভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হক মিয়ার পুত্র আমিনুল ইসলাম সাগর। বর্তমানে তিনি উজিরপুরের রাজাপুর বাজারে পোল্ট্রি ফিড বিক্রয়ের নামে ঘঁটি গেরে বসেছেন। এলাকার সুবিধাভোগী দালালদের সহায়তায় কিছুদিন পূর্বে শিবপুর এলাকায় তিনি (সাগর) নামেমাত্র জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে কতিপয় অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় সাগর ও তার সহযোগীরা জোড়পূর্বক স্থানীয় শুকুমার রায়, ধামু রায়, শ্যামল বাড়ৈ, নুরুল হক, বিমলা রায়, শাহিন আহম্মেদ, নিরোদ বাড়ৈ, শহিদুল হকসহ একাধিক দিনমজুরের জমির পাকাধান কেটে নিয়ে যায়। একইসাথে সাগরের ক্রয়কৃত জমি সংলগ্ন ওই এলাকার বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও দিনমজুরদের প্রায় ১৫একর ফসলি জমি জবর দখল করে “অর্গানিক এগ্রো লিমিটেড”র সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে প্রভাবশালী সাগর মৎস্য ঘের তৈরী শুরু করে। অসহায় ভুক্তভোগীরা এর প্রতিবাদে সম্প্রতি ঝাড়– মিছিল বের করেন। এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম সাগরসহ তার সহযোগীদের আসামি করে দিনমজুরদের পক্ষে শহিদুল হক বাদি হয়ে উজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
শুকুমার রায়, ধামু রায়, শ্যামল বাড়ৈসহ একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করেন, থানা পুলিশের সাথে সাগরের সক্ষতা থাকায় তাদের বিচার ঝুলে রয়েছে। উল্টো তাদের ঘায়েল করতে সাগরের কথিত ফার্মের ম্যানেজার রিপনকে বাদি করে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে উপজেলার জনপ্রিয় যুবলীগ নেতা লিটন মিয়াসহ সংখ্যালঘু ও দিনমজুরদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা আরো অভিযোগ করেন, বর্তমান উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম.এ আজিজের সাথে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই সাগর এসব অপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
ওই গ্রামের সুবল মন্ডল জানান, সাগরের ভাড়াটিয়া সর্বহারা সশস্ত্র ক্যাডারদের অব্যাহত হুমকির মুখে তিনিসহ গ্রামের একাধিক পরিবারের কুমারি মেয়েদের ও গৃহবধুদের নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামের একাধিক পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে ও পুলিশি গ্রেফতার আতংকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ঘেরপাড়ের টং ঘরে শ্রমিক নামধারী তরিকুল ইসলাম তারিকের কাছে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ওই ওয়ার্ডের (৩নং) ছাত্রলীগ সভাপতি বলে দাবি করলেও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক হাওলাদার তা অস্বীকার করেন।
সরেজমিন টংঘরে মোতায়েনকৃত অর্ধশতাধিক লোকজন দেখা গেলেও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা বিভিন্ন পন্থায় দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এম.এ আজিজের সাথে সাগরের পূর্ব পরিচয়ের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। তিনি আরো জানান, মাসখানেক পূর্বে এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছিলো। গত সোমবার থেকে সাগর সশস্ত্র সর্বহারা গ্র“পের লোকজন মোতায়ন করে সংখ্যালঘুদের ভয়ভিতি প্রদর্শন করে পূর্ণরায় ঘেরকাটার কাজ শুরু করার খবর পেয়ে আমি গত মঙ্গলবার (১৫ জুন) পুলিশ পাঠিয়ে ঘের কাটা বন্ধ করিয়েছি। উভয় গ্র“পের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই. শামীম আহম্মেদ বলেন, দিনমজুরদের পক্ষে শহিদুল হক গত ১৩ জুন সাগরসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে গত ১৪ জুন সাগরের ম্যানেজার রিপন ১৩ জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। উভয় মামলার তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখিত অভিযোগের কথা অস্বীকার করে মোবাইলফোনে আমিনুল ইসলাম সাগর বলেন, আমি যা করছি তার বৈধতা আছে।