মুক্তচিন্তা

সৌদী আরব হজের আত্মাটিকে ব্যবসাপণ্য করেছে

এক ব্যক্তি একবার হজ করার সংকল্পে তিল তিল করে অর্থ জমিয়েছিলেন। হজ্জে যাবার ঠিক আগে তার দেখা হয় এক অনাহারী পরিবারের সঙ্গে। উনি সঞ্চিত অর্থ এই পরিবারকে দিয়ে দে্ন। ভাগ্যে তার হজ করা নেই হয়তোবা এমন ভেবে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান। ঘটনাটির কথা শুনে আমাদের মহানবী মুহাম্মদ(সাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তা ঐ মহৎ ব্যক্তির হজ কবুল করেছেন।

হজ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। কিন্তু এই হজ পালনের পূর্ব শর্ত খুব কঠিন। হজে যাবার জন্য সৎ পথে উপার্জন করতে হয়; নিজের পারিবারিক দায় সমাপনান্তে এই হজব্রত পালন করতে হয়। এমনকি চোখের সামনে নিরন্ন মানুষের মিছিল দেখেও না দেখার ভান করে হজপালনে কেবল সৌদী আরব ঘুরে আসা হয়; হজ হয়না। যারা দুর্নীতির পয়সা হজ করেন; ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া পয়সায় হজ করেন, সরকারের টাকায় হজ করেন, পবিত্র ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে গজিয়ে ওঠা জামায়াতে ইসলামের পয়সায় হজ করেন, ধর্ম-ব্যবসার মুনাফার পয়সায় হজ করেন; সৃষ্টিকর্তা এসব হজ অবশ্যই কবুল করেননা। কারণ অধিকার বঞ্চিত মানুষের সম্পদ লুন্ঠন করে, তাদের জন্য বরাদ্দ হক মেরে হজ করার মধ্যে পবিত্র ধর্মের কোন সহযোগ নেই। আমাদের দেশ থেকে যারা হজে যান; অবশ্যই তারা সম্পদের অসম বন্টনের সুযোগ নিয়ে হজে যান।আর এরকম দরিদ্র দেশের সরকারেরও হজের জন্য অর্থ ব্যয় মানে গরীবের হক মেরে গজিয়ে ওঠা ভি আইপিদের হজে পাঠানোর অনৈতিক নাটক।

সৌদী আরবে আজকের যে হজপালন হয়; তা ইসলামের সাম্যবাদী সুষম সমাজের ধারণাকে অগ্রাহ্য করে। হজ পালন করতে গিয়ে কেউ থাকবেন গরম তাঁবুতে; কেউ থাকবেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে; এমন কোন বিধান ইসলামে নেই। হজ পালন সবাইকে একই রকম কষ্টের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সুতরাং দেখাই যাচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুর ব্যবস্থা করে সৌদী সরকার মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করছে। একটি পবিত্র উপলক্ষের যে নির্মম ব্যবসায়ীকরণ করেছে সৌদী সরকার তা ইসলামের মূল আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ব্যবসার তাগিদে মহানবী মুহাম্মদের (সাঃ) স্মৃতিধন্য স্থান গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে সেভেন স্টার হোটেল বানানোর মত কাজ যে সৌদী আরবের কতৃপক্ষ করতে পারে; তারা পুরোপুরি ব্যবসায়ী মনষ্ক ও অসাধু। এরা ইসলাম ধর্মের সঙ্গে প্রকারান্তরে শত্রুতা করছে; যেটি আমরা সাধারণ মানুষ চ্যালেঞ্জ করছিনা।

বাংলাদেশের বর্ষীয়ান নেতা ও টাঙ্গাইলের সিদ্দিকী পরিবারের সদস্য লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের বাস্তবতায় হজে গিয়ে ৫০০ কোটি টাকা প্রতিবছর আমরা সৌদী সরকারকে দিয়ে আসতে পারি কীনা সে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ বাংলাদেশ একটি সামষ্টিক পরিবার। এই পরিবারের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যে বিশীর্ণ রেখে হজে গেলে সৃষ্টিকর্তা তা গ্রহণ করবেন না অবশ্যই।

লতিফ সিদ্দিকী একজন প্র্যাকটিসিং মুসলমান। ধর্মপালনের পাশাপাশি ধর্ম-দর্শন নিয়ে অনেক পড়াশুনা করেছেন। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে উনার যে পড়াশুনা আছে; আজ আমরা যারা তাকে মুরতাদ বলে গালি দিচ্ছি তাদের সে পড়াশুনা নেই। লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারটি ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিকী(রাঃ) এর পরিবারেরই উত্তরসূরী (লিনিয়েজ)। এই পরিবারের মেয়ে বিবি আয়েশা (রাঃ) যেহেতু আমাদের মহানবীর স্ত্রী ছিলেন; সিদ্দিকী পরিবারটি আমাদের নবীজীর আত্মীয়।

আর হজের শুরুর দিকটিতে এর আয়োজনেও অনেক অবদান আছে এই সিদ্দিকী পরিবারের। সিদ্দিকী বংশের উত্তরসূরী হিসেবে তাদের প্রচলিত সাম্যবাদী হজের সঙ্গে আজকের শ্রেণীবিভাগ করা ব্যবসামুখী হজের প্রসারে খুবই আহত বোধ করেছেন লতিফ সিদ্দিকী।

আমরা তপশীলি সম্প্রদায়ের লোক; শ্রেণী বৈষম্যের কারণেই মূলতঃ আমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। সেইখানে হজের শ্রেণী বৈষম্য নিয়ে আমাদেরই প্রথম প্রতিবাদ করার কথা। কিন্তু যেহেতু আমাদেরই ভাইবোনেরা সৌদী আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে; তার চুরির অপরাধে আমার গরীব শ্রমিক ভাইয়ের শিরশ্ছেদ করে; আমাদের সাহস নেই মনিবের বিরুদ্ধে দুটো কথা বলার। আমরা দলিত হিসেবে জন্মেছি; দলিত হয়েই মরবো; এতে দোষের কিছু নেই।

কিন্তু যে সিদ্দিকী পরিবার ইসলামের গোড়াপত্তনে আমাদের মহানবীর পাশে ছিলেন; সেই পরিবারের লিনিয়েজের সদস্যের তো মানসিক দুর্বলতা থাকবে না সৌদী আরবের আজকের ব্যবসা মনষ্কতাকে চ্যালেঞ্জ করতে। কারণ আজ যে শেখ বংশ মক্কা-মদিনার ব্যবসা খুলেছে; এরা তো শিক্ষিত নয়; সিদ্দিকীদের মতো শ্রমে ও ঘামে গড়ে তুলেনি ইসলামের স্তম্ভগুলোকে। এরা মরুভূমির দস্যু ছিল; পরে ভাগ্য চক্রে বাজবংশ খুলে বসে। ইসলামে কোন রাজবংশের অনুমোদন নেই। এই অনৈসলামিক শেখ রাজবংশ সৌদী আরবের নিরাপত্তার কাজ এমেরিকা ও ইজরায়েলী সেনাদের হাতে দিয়ে নিজেরা পেট্রোলিয়াম ব্যবসার মুনাফা লুটছে। শেখ বংশের যুবরাজরা প্রায়ই পশ্চিমে অনৈসলামিক কাজে ধরা পড়লে ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়। আর আমাদের গরীব বাংলাদেশী ভাইয়ের কগাছা তার চুরিকে অনৈসলামিক বলে তার শিরশ্ছেদ করছে।

আর আজ যেসব লোক সৌদী আরবের পয়সায় বাংলাদেশে ব্যবসা বানিজ্য করে খাচ্ছে এরাও গোবরে পদ্মফুল ইসলাম সম্পর্কে বেশী কিছু জানে না। টোকাই থেকে অনেকে মন্ত্রীও হয়েছে। আর যে হুজুরেরা ইসলামের অনুভূতির ঠিকাদারী করছে; এদের বেশীর ভাগই আমাদের তপশীলি সমাজ থেকে আসা নও মুসলিম। যারা সৌদী আরবে ভিক্ষুক বা বেকার ছিল; তাদের অনেককে বিন কাসেমের জাহাজে করে ভারতবর্ষে পাঠানো হয়েছিল কর্ম সংস্থানের জন্য। এরাই নিজেদের শাহ সূফী এই সেই নাম চড়িয়ে আজ ইসলামের ঠিকাদার হয়েছে। তারা মক্কা-মদিনার একদা ভিক্ষুক বংশের ছেলে আজ তাদের তপশিলী থেকে নও মুসলিম মব দিয়ে মিছিল করিয়ে মহানবীর অতিপ্রিয় সিদ্দিকী পরিবারের (লিনিয়েজ) একজন সদস্যের মুন্ডু চাইছে। বাঘের গাল ছাগলে চাটার এমন উদাহরণ সহসা চোখে পড়ে না।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে )

সৌজন্যে : প্রিয়.কম

Maskwaith.Ahsan's picture

Maskwaith.Ahsan


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Check Also

Close