আগৈলঝাড়ায় বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের নিকট ৮ দফা সুপারিশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি

গত ৪ বছরেও আগৈলঝাড়া উপজেলায় বন্যা মোকাবেলায় কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রাহণ করা হয়নি। বন্যার আশংখ্যায় আতংকে রয়েছে আগৈলঝাড়াবাসী। এলাকার জন্য জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের ৮ দফা সুপারিশ আজও বাস্থবায়ন হয়নি দীর্ঘ ৪ বছরে।
এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ১৫৫.৪ বর্গ কি.মি. নিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা এবং উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি প্রবেশ করে কৃত্তিম বন্যার সৃষ্টি হওয়ায় গত ১ দশক ধরে এলাকার প্রায় ৩০ হাজার কৃষক পরিবার বন্যা এবং বন্যা বন্যাপূর্ববর্তী আশংকায় থাকে। কৃত্তিম বন্যায় উঠতি ফসল, মৎস্য সম্পদ, পানের বরজ সহ বিভিন্ন প্রকার সম্পদের ব্যপক ক্ষতি সাধিত হয়ে আসছে। ফলে, সামান্যর চেয়ে একটু বেশি পানি হলেই যা বন্যা আকারে রুপ নেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ বেষ্ঠিত এলাকাও তা থেকে রেহাই পায়না। কারণ বাঁধের বাহিরে পানির চাপ বেশি হলে ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে বাঁধ কেটে দেয়। ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমেশেই তলিয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার জন্য হাজার হাজার কৃষক পরিবার সহ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে । সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে আগৈলঝাড়া উপজেলাকে বন্যার কবল থেকে বাঁচানোর জন্য ৮ দফা সুপারিশ করেছিলেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। সুপারিশগুলো (১), বাকাল থেকে রাজিহার-মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে ১ নং ব্রিজ সংলগ্ন খালের মুখ
উন্মুক্তকরে নৌচলাচলের সুবিধা সহ ব্রিজ নির্মাণ। (২), বাকাল- রাজিহার-মাগুরা বেরিবাঁধের রাজিহার ব্রিজ সংলগ্ন রাজিহার খালের মুখ উন্মুক্ত করে নৌচলাচলের সুবিধা সহ একটি ব্রিজ নির্মাণ। (৩), বাশাইল-মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের মাঝামাঝি স্থানে একটি বড় কালভার্ট নির্মাণ করা। (৪), পয়সারহাট-ত্রিমূখী বাজারের সুবিধাজনক স্থানে ৮-১০ দরজা বিশিষ্ট সুইচ গেইট নির্মাণ। (৫), পয়সারহাট-কালুপাড়-রত্নপুর বেরীবাঁধে রামের বাজার খালের মুখে সুইচ গেইট অথবা ব্রিজ নির্মাণ। (৬), পয়সারহাট-কালুপাড়-রত্নপুর বেরীবাঁধে কাঠিরা খালের মুখে কালভার্ট নির্মাণ করা। (৭), পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গোপালগঞ্জের রামশীল সু্ইচ গেইট, ছয়গ্রাম (মিশ্রীপাড়া) সুইচ গেইট সহ ইনলেট, আউটলেটগুলো জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণ করার প্রয়োজন। (৮), আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্নখাল বিশেষত যেসকল খালের মুখে বাঁধ রয়েছে এবং ব্রিজ নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে সে খালগুলো পুণঃ খনন করা প্রয়োজন। উপরোক্ত ৮ দফা সুপারিশ বিগত ৪বছর পূর্বে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরেও অনুরুপ সুপারিশের প্রস্তাবনা দিয়েছেন। তৎকালিন জেলা প্রশাসক মঞ্জুর-ই-এলাহী উপজেলার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন স্থানে বেরীবাঁধের উপর ব্রিজ ও সুইচ গেইট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশল বিভাগ জেলা প্রকৌশল বিভাগকে ইতমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট ও সুইচ গেইট নির্মাণের সাম্বাব্যতা যাচাই করা সহ বিভিন্ন প্রজেক্ট প্রপোজাল (পি.পি) এর মানচিত্র প্রেরণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। এলাকার জনসাধারণের দাবি উত্তরে মাদারীপুর ও ফরিদপুর থেকে নেমে আসা উজানের বন্যার পানি দ্রুত অপসারণ না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত হওয়া এবং শুস্ক মৌসুমে চাষাবাদে সেচের জন্য পানির অভাবে উল্লেখিত সুপারিশ সমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আশু দৃষ্টি কামনা করছে আগৈলঝাড়া উপজেলার জনগন।