বরিশাল

আগৈলঝাড়ায় জাতীয় পার্টির অফিস ভেঙে জায়গা দখল করলো মন্দির

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কেন্দ্রিয় পূঁজা উদযাপন কমিটির বিরূদ্ধে জাতীয় পার্টি (এরশাদ)’র কার্যালয় ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ৩৪ বছর আগে আগৈলঝাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তি সরকারি জমির উপর তারা একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে উপজেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।

জমির অপর অংশে কালী মন্দির, দূগা মন্ডপ, আগৈলঝাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ও আগৈলঝাড়া প্রি-ক্যাডেট এন্ড কেজি স্কুল অবস্থিত রয়েছে। ওই কালী মন্দিরে বাৎসরিক কালীপূজা ও দূর্গা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সাধারন সম্পাদক সরদার হারুন রানা, দপ্তর সম্পাদক আলতাফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক সুন্দরালী পাইক অভিযোগ করে বলেন, ওই কালী মন্দিরের দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি উপজেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক রমনী সরকার, আ’লীগ নেতা যাদব মজুমদারের নেতৃত্বে পূজা উদযাপন কমিটির ২০-২৫ সদস্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির কার্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলেন। এরপর বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে জাপা কার্যালয়ের জায়গা দখল করে নেয় পূজা কমিটি।

এ সময় প্রতিমা ভাঙ্গার মিথ্যা মামলায় জাড়ানোর হুমকির ভয়ে জাপার নেতাকর্মীরা বাঁধা দিতে সাহস পাননি।

বিষয়টি জাপার নেতৃবৃন্দ আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তৃুজা খান, ইউএনও, ওসি সহ আ’লীগের নের্তৃবৃন্দের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডিপুটি কমান্ডার আবু তাহের মিয়া বলেন, এরশাদ সরকারের আমলে তৎকালীন মন্ত্রী সুনীল গুপ্ত’র সময় জাতীয় পার্টি এ অফিস ঘরটি নির্মাণ করেছিল। সেই থেকে ওই ঘরে জাপার নেতাকর্মীরা দলীয় কাজকর্ম চালিয়ে আসছিল। জাপার অফিস ঘরটি ভেঙ্গে ফেলে জায়গা দখল করে নেয়া ঠিক হয়নি।

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ইউসুফ হোসেন মোল্লা জানান, জাতীয় পার্টি’র এরশাদ সরকারের আমলে আমার নেতৃত্বে ওই সরকারি জায়গার উপর উপজেলা জাতীয় পার্টির অফিস ঘর নির্মাণ করি। ৯৬ সালে আ’লীগ সরকারের আমলে আমি আ’লীগে যোগ দিলেও অফিস ঘরটি জাপার অফিস হিসেবেই ছিল। শুনেছি মামলা করে নাকি ওই জায়গা মন্দির কমিটি পেয়েছে।

জাপার কার্যালয় ভেঙ্গে ফেলে জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক ও ওই দূর্গা মন্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রমনী সরকার বলেন, ওটা জাতীয় পার্টির অফিস ছিল না। ওটা সুজনকাঠি ক্লাব ঘর ছিল। ক্লাব ঘরটি খুলে সরিয়ে রেখে মন্দিরের জায়গায় বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।

জামাল উদ্দিন


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply