বরিশাল

বরিশাল শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে বন্ধ হচ্ছে না প্রমোদ বাণিজ্য

গত সোমবার দুপুরে নগরীর পোর্ট রোড ব্রিজ সংলগ্ন হোটেল সি-ভিউতে ঢোকামাত্র (পরিচয় গোপন করে) এক মধ্য বয়সী লোক জানতে চাইলেন, ‘কি চান ভাই?’ সরাসরি জিজ্ঞেস করা হল- ‘কাজ করা যাবে’। সঙ্গে সঙ্গে একটু ভেতরে গিয়ে ইশারায় ডাক দিলেই চলে আসেন সেজেগুজে পরিপাটি থাকা দুই নারী। তাদের দেখিয়ে এই মুহূর্তে দুজনই আছে জানিয়ে ‘চলবে কিনা’ জানতে চান। না সূচক জবাব দিলে বলেন, ‘বিকেলে আইসেন, তখন আরো মেয়ে থাকবে।’ জানতে চাইলে তার নাম ইসমাইল বলে হোটেলের ম্যানেজার পরিচয় দেন।

সড়ক মাধ্যমের দুটি প্রবেশ পথ ও লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকাসহ বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্পটে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় আবাসিক হোটেল। এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি চিহ্নিত আবাসিক হোটেলে চলছে অসামাজিক (পতিতা) ব্যবসা। সমাজের সুশীল গোষ্ঠীর অভিযোগে গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নানা অপ্রিয় তথ্য। আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কাজ

পোর্ট রোডের হোটেল সি-ভিউসহ নথুল্লাবাদ, রূপাতলী, বান্দ রোড, পোর্ট রোড, গির্জা মহল্লা, কাটপট্টি রোড, লাইন রোডের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি আবাসিক হোটেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সের নারীর পসরা।

সামাজিকভাবে অবৈধ ও ধর্মীয় দৃষ্টিতে ধিকৃত হলেও জৈবিক চাহিদা মেটাতে স্কুল-কলেজ ছাত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণি-পেশার যুবক-পুরুষরা হর-হামেশাই যাচ্ছেন এসব আমোদখানায়। লিপ্ত হচ্ছেন বিবাহবহির্ভূত দৈহিক সম্পর্কে।

অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে- পোর্ট রোডের হোটেল অতিথি, হাসপাতাল রোডের প্যারাডাইস-২, ফলপট্টি রোডের গালিব, হোটেল ফেয়ার, হোটেল কুয়াকাটা, হোটেল বিসমিল্লাহ, বিউটি রোডের তাজমহল, স্কাইভিশন, নাজমা, বান্দ রোডের হোটেল আজ, মহসিন মার্কেটের সামনে হোটেল মা, কাটপট্টি রোডের হোটেল পূর্নিমা, ধানসিঁড়ি, গোল্ডেন ইন, লাইন রোডের হোটেল নুপুর, নথুল্লাবাদ এলাকার হোটেল শরীফ, ঘাসফুল, ব্যবিলনসহ আরো অনেক। দৃশ্যত এগুলোর অধিকাংই নিন্ম মানের। যা নামে আবাসিক হলেও একটি রাত কাটানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তাই আবাসের জন্য নয়, শুধুমাত্র নারীর সঙ্গ পেতেই ওইসব হোটেলে যাতায়াত ঘটে পুরুষদের।

এসব আবাসিক হোটেলের প্রায় সবগুলোই চলছে ভাড়া ভবনে। প্রত্যেক হোটেলের রয়েছে কমিশন-ভিত্তিক দালাল। যাদের কাজ হচ্ছে খদ্দের জোটানো।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি নগরীর কিছু এলাকায় বহুতল ভবনে ফ্লাট ভাড়া নিয়ে কতিপয় নারী চালাচ্ছেন দেহ ব্যবসা। বেছে বেছে নির্ঝঞ্জাট এলাকায় ফ্লাট ভাড়া নেয়। অন্ধকার নামলেই ওইসব ফ্লাটে বাড়ে লোক সমাগম।

দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক ও মৌলিক অবক্ষয়জনিক এ অপকর্ম নগরীতে চলে আসলেও অদৃশ্য কারণে নির্মুল হচ্ছে না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে (বিএমপি) নতুন শীর্ষ কর্মকর্তার যোগদানের পর এসব অসামাজিক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, হোটেল সংশ্লিষ্টরা এমনটি দাবি করলেও সরেজমিনে দেখা গেছে তার ব্যতিক্রম।

এ বিষয়ে বিএমপি’র কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী বলেন, এমন খারাপ কাজ কোনক্রমেই চলতে দেয়া যাবে না। অনেকাংশে বন্ধ হলেও কিছু স্থানে চলছে। তবে শীঘ্রই এসব বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে, এ অপকর্মে যুক্ত লোকজন শুধু বরিশালে নয়, এদের প্রসার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এসব হোটেলগুলোতে নারী সরবরাহকারীদের অনেকেই দেশের বাইরে মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হোটেল কর্মচারী জানান, নগরীর এক প্রতিষ্ঠিত আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম সে কর্মরত হোটেলসহ একাধিক হোটেলে দেহ পসারিনী সরবরাহ করে থাকেন। এছাড়া বরিশালের বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করেন এ অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত হতে।

পরিচয় গোপন করে ইব্রাহিমের সঙ্গে মুঠোফোনে খদ্দের সেজে কথা বললে তিনি পতিতা সরবরাহে অস্বীকৃতি জানালেও নিয়ে গেলে সময় কাটানোর ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান।

সৌজন্যে: আজকের বরিশাল ডটকম


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply