গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীতে ঠিকাদারের লোকজনের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, হামলায় দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দোনারকান্দি এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় ঠিকাদারের লোকজনের সাথে গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর ও ৭টি বসত বাড়ীতে হামলা-লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।

হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দোনারকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ৪ তলা ভবনের নীচ তলা পিলারের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় সিমেন্টের পরিমাণ কম দেয়ায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অবিনাশ চন্দ্র সরকার ও স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে রাজমিস্ত্রি শাহে আলম হাওলাদারের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শ্রমিকদের সাথে স্কুল কমিটির সদস্য ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এ সময় নির্মাণ শ্রমিক সাইফুল সহ ৫ জন শ্রমিক আহত হয়।

খবর পেয়ে নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শাওন হাওলাদার তার সহযোগী মোস্তফা, জুয়েল, টুটুল শেখ, মন্টু শেখ এদের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন যুবক লাঠিসোটা নিয়ে স্থানীয়দের ওপর হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে পার্শ্ববর্তী কালকিনির ডাঁসার এলাকা থেকে ৪/৫টি টলিতে করে আরও অর্ধশত লোক এসে হামলায় অংশ নেয়। তারা স্কুলের পার্শ্ববর্তী গণেশ সরকারের বাড়ীর দুর্গা মন্দিরে হামলা চালিয়ে ওই মন্দিরের সবকটি মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে এ মন্দিরের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এ সময় তারা হিন্দু অধ্যুষিত ওই এলাকার গৌতম সরকার, শুষেন সরকার, অনিল বিশ্বাস, কিরণ বিশ্বাস, কেশব বিশ্বাসের বসত ঘরে কয়েক দফা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। প্রায় ২ ঘন্টাকাল ব্যাপী হামলাকারীরা এলাকায় তাণ্ডব চালায়। তাদের হাঙ্গামার কারণে স্কুল সংলগ্ন চিত্ত রঞ্জনের বাড়ীতে তার স্ত্রীর মৃত্যু বার্ষিকীতে আসা লোকজন প্রাণ ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে। ওই বাড়ীতে ও হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়।

হামলায় সংকর সরকার, শিক্ষিকা দিপু রানী, নির্মাণ শ্রমিক সাইফুল, গৌরী রানী, নরোত্তম সহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে গৌরনদী ও অন্যান্যদের কালকিনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে গৌরনদীর পৌর মেয়র হারিছুর রহমান, গৌরনদীর থানা পুলিশ ও সরকারী দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রতিমা ভাংচুর, বসত বাড়ীতে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় সোমবার রাতে দোনারকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অবিনাশ চন্দ্র সরকার ছাত্রলীগ নেতা শাওন হাওলাদার, রাজমিস্ত্রি শাহে আলম হাওলাদার, শহীদ হাওলাদার সহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৪০ জনকে আসামী করে গৌরনদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ হারুন মোল্লা, টিপু মৃধা, কামরুল ইসলাম ও সাইফুল নামক ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

রাতে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার একে এম এহসান উল্লাহ, গৌরনদী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান, গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রতিমা ভাংচুর ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বসত বাড়ীতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক এ্যাড. বলরাম পোদ্দার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের গৌরনদী উপজেলা শাখার সভাপতি বাবু কালিয়া দমন গুহ, সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রণব চন্দ্র বাবু দত্ত।

তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান।

আরও সংবাদ...

Leave a Reply

Back to top button