বরিশাল

ইউনিসেফের টিউবওয়েল, প্রতারনা করে ইউপি সদস্যর কোটি টাকা আত্মসাত

বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ইউনিসেফের আর্থিক সহযোগীতায় গভীর নলকূপ স্থাপনের নামে প্রভাবশালী এক ইউপি সদস্য কর্তৃক প্রতারনার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোটি টাকা আত্মসাত ও এক ঠিকাদারকে জিম্মি করে কাজ করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি উপজেলার শোলক ইউনিয়নের দক্ষিণ ধামুড়া গ্রামের। গতকাল সোমবার সরেজমিনে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দক্ষিণ ধামুড়া গ্রামের ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ইউনিসেফের আর্থিক সহযোগীতায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য উপজেলা সদর, শোলক, ওটরা ও বরাকোঠা ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন। ভূক্তভোগী জামাল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন আংশিক নলকূপ স্থাপন করলেও টাকা গ্রহণ করা সিংহভাগ লোককে নলকূপ না দিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করেন। এনিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও ফারুক কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না।

গভীর নলকূপ স্থাপনের ঠিকাদার বাবুগঞ্জের জাহাপুর গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন জানান, প্রতিটি টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য বরিং শ্রমিক বাবদ তাকে ২৩ হাজার টাকা করে দেয়ার চুক্তিতে গত রমজান মাস থেকে শুরু করে তিনি ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে ৬০টি নলকূপ স্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতেই নলকূপ স্থাপনের টাকা চাওয়ায় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন ও তার সহযোগীরা তাকে জিম্মি করে তিনবার মারধর করে জোরপূর্বক নলকূপ স্থাপন করতে বাধ্য করেন। উপায়অন্তুর না পেয়ে তোফাজ্জেল হোসেন র‌্যাব-৮ এর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৮ ডিসেম্বর নলকূপ স্থাপনের পুরো সরঞ্জামাদি আটক করে ফারুক তাকে (তোফাজ্জেল) মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। অসহায় তোফাজ্জেল হোসেন তার নলকূপ স্থাপনের সরঞ্জামাদি ও পাওনা প্রায় আড়াই লাখ টাকা পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি (তোফাজ্জেল) প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শোলক ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যরা জানান, পুরো উপজেলায় ইউনিসেফের কোন ফান্ড নেই। তারা অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে জাল টাকা, স্বর্ণ চোরাকারবারী, নারী পাচার, সন্ত্রাসী লালনসহ প্রতারনার একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা সম্প্রতি সময়ে ফারুককে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করার কয়েকদিন পর সে (ফারুক) জামিনে বেরিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply