তিনবার জন্ম, ভূয়া হয়েও মুক্তিযোদ্ধা, ভাতাসহ সকল সুবিধা গ্রহন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হয়ে ভাতা গ্রহনসহ সরকারি নানান সুবিধা গ্রহন করেছেন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের মাহিলাড়া গ্রামের মৃত আ. কাদের খলিফার পুত্র মো. হাবিবুর রহমান খলিফা। বিভিন্ন কাগজপত্রে তার জন্ম সনদে তিন রকম জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে তার বয়স সাড়ে ৯বছর।

অনুসন্ধানে বিভিন্ন কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের মৃত আ. কাদের খলিফার পুত্র মো. হাবিবুর রহমান খলিফা ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক কর্মকর্তারা জানান, হাবিবুর রহমান একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা। সে নানানভাবে অনৈতিক পন্থায় তালিকাভূক্ত হয়ে ভাতাসহ নানাবিধ সুবিধা গ্রহন করছেন।

এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, মো. হাবিবুর রহমানের জন্ম তিনবার। তিনটি জায়গায় তার তিন রকম জন্ম তারিখ রয়েছে। তার শিক্ষা সনদ অনুযায়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের বছর বয়স সাড়ে ৯ বছর। ২০১৩ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে একজন মৃক্তিযোদ্ধার বয়স কমপক্ষে ১৫ বছর থাকর কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। ।

১৯৭৮ সালে হাবিবুর রহমান মাহিলাড়া এ, এন, মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এস, এস, সি পরীক্ষায় অংশ নেন। শিক্ষা সনদে জন্ম তারিখ ১৫/১০/৬১ ইং, জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ১৩/৫/১৯৫৬ ইং এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফাইলে ভাতা পাওয়ার আবেদন পত্রে জন্ম তারিখ ২৮/৯/১৯৫৪ ইং।

গৌরনদী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শেখ জহির উদ্দিন জানান, হাবিবুর রহমান এপ্রিল ২০১৩ থেকে ডিসেম্বর ২০১৪ ইং পর্যন্ত ৭৩ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করেছেন।

যুদ্ধকালীন কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, মুক্তিযোদ্ধা লালন ফকির, আঃ হক ঘরামীসহ অনেকেই  জানান, হাবিবুর রহমান অনৈতিক সুবিধা দিয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। ২০১১সালে তিনি তার কন্যা নাহিদা আকতারকে মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরী দেন। এরপর তার পুত্র নাঈম খলিফাকে ২০১৪ সালে মুক্তিযোদ্ধার কোঠায় পুলিশ কনষ্টবল পদে চাকুরী দেন। মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে তালিকাভূক্ত হয়ে সুবিধাদী গ্রহন করায় তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন।

অভিযোগের ব্যপারে মো. হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মো. মনিরুল হক জানান, যুদ্ধকালীন সময়ে হাবিবুর রহমান খুবই ছোট ছিল এবং যুদ্ধ করার মত অবস্থা তার ছিল না। সে একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। এ ব্যপারে তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ : বেলাল হোসেন

Leave a Reply