গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীর টরকী বন্দরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

ব্যাংকের ঋনের দ্বায় থেকে নিজেদের রক্ষায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দরের ছাগলের হাট গলিতে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে বন্দরের সাধারন ব্যবসায়ীদের ভেতর থেকে অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের অভিযোগের তীর ঋনের দায়ে বেকায়দায় পড়া ওই বন্দরের কাজী আল আমীন ও তরিকুল ইসলাম দিপু মাঝি নামের দুই ব্যবসায়ীর দিকে।

পরিকল্পিত এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ফাঁস করে দেয়ায় শনিবার দুপুরে চঞ্চল মাঝি নামে বন্দরের এক কাপড়ের ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে বেদম মারধোর করেছে ওই দুই ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় বন্দরের সাধারন ব্যবসায়ীদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, গত ২৯ মার্চ রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই বন্দরের ছাগলের হাট গলিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়। এতে ৬টি গোডাউনসহ ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৮টি বাসাবাড়ি ভস্মীভূত হয়।

হামলায় আহত ব্যবসায়ী চঞ্চল মাঝি সাংবাদিকদের বলেন, বন্দরের ছাগল হাট গলিতে অগ্নিকান্ডের পরপরই বন্দরের সকল ব্যবসায়ীদের মাঝে সন্দেহ জাগে যে এটি পরিকল্পিত অগ্নিকান্ড। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে বন্দরের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে ফুসেঁ আছেন। শনিবার বেলা ১২টার দিকে অগ্নিকান্ডের এ বিষয় নিয়ে তারা নিজেদের ভেতর আলোচনা করছিলেন এ সময় ব্যবসায়ী আল আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেদম মারধর করে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার ওপর হামলাকারী বন্দরে ছাগল হাট গলির ব্যবসায়ী কাজী আল-আমিন এর মালিকানাধীন আই.ডাব্লিউ ডিসট্রিবিউশনের নামে সোনালী ব্যাংক টরকী বন্দর শাখায় ২৫ লাখ টাকা ইউনাইটেড লিজিং কোম্পানীতে ১৫ লাখ টাকা ও অপর হামলাারী ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম দিপু মাঝির মালিকানাধীন কেয়া এন্টারপ্রাইজের নামে ইসলামী ব্যাংক টরকী বন্দর শাখায় ৪৫ লাখ টাকা ঋন রয়েছে। ওই ঋনের দ্বায়ে কাজী আলামিন বেশ বেকায়দায় পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের সন্দেহ ঋনের দ্বায় থেকে রেহাই পেতে কাজী আল-আমিন ও দিপু মাঝি মিলে পরিকল্পিত ভাবে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া আল আমীন ও দিপু মাঝির দোকানে কোন মালামাল ছিলনা। এতে ব্যবসায়ীদের সন্দেহ আরো ঘনিভুত হয়।

কাজী আল আমীন ও দিপু মাঝির ম্যানেজার দিলিপ রায় সাংবাদিদের জানান, গোডাউন ও অফিস ঘরের চাবি তার কাছে থাকে। প্রতিদিন রাতে তিনি গোডাউন ও অফিস বন্ধ করে বাসায় যান। অগ্নিকান্ডের রাতে আল আমীন ও দিপু মাঝি তার কাছ থেকে চাবি রেখে দিয়ে রাত ৮টার দিকে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেন। এ ছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় গোডাউন থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার মালামাল তারা আল আমীনের ভগ্নিপতি ও দিপু মাঝির ভায়রা রফিকুল ইসলাম রাঢ়ী’র রায়পট্রির দোকানে রেখে আসেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, অগ্নিকান্ডের পর ওই দুই ব্যবসায়ীর ম্যনেজারের দেয়া তথ্য ব্যবসায়ীদের মাঝে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

টরকী বন্দর বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক রাজু আহমেদ হারুন সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকান্ডে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সাধারন ব্যবসায়ীদের ধারনা এটি পরিকল্পিত। কাজী আল-আমিন ও দিপু মাঝি ৩টি ব্যাংক থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার লোন নিয়েছেন। অগ্নিকান্ডের পর জানাযায় তাদের দোকানে কোন মালামালই ছিল না। অভিযোগ উঠেছে হামলাারী ওই দুই ব্যবসায়ী ঋণের দ্বায় থেকে নিজেদের মারধর করা হয়েছে।

উল্লেখিত অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায়ী কাজী আল-আমিন সাংবাদিকদের জানান, ভস্মীতূত দোকানের টিন ভাগাভাগি নিয়ে চঞ্চল মাঝির সাথে তার মারামারি হয়েছে।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবদুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, টরকী বন্দরে আগুনে ৩৫ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে আগুনের কারণ হিসেবে শর্ট সার্কিট উল্লেখ করা হয়েছে।

গৌরনদী থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বন্দরের কোন কোন ব্যবসায়ী সন্দেহ করছে যে আগুন পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছে।

সংবাদ : এস,এম জুলফিকার


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply