বরিশাল

বিসিসি’র ১৬ হাজার বৈদ্যুতিক বাতির সুবিধা পাচ্ছেনা নগরবাসী

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৬ হাজার বৈদ্যুতিক বাতির সুবিধা পাচ্ছেনা নগরবাসী। নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর রাস্তাগুলোতে দেয়া বিসিসি’র বৈদ্যুতিক বাতির অধিকাংশই অচল। যার ফলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে নগরবাসী। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে রাতে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নগরবাসীর প্রাণনাশের ভয় তো রয়েছেই।

অপরদিকে সৌন্দর্য হারাচ্ছে রাতের বরিশাল নগরী। বিসিসি মেয়র আহসান হাবিব কামাল নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু তার পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে কর্তব্য পালনে উদাসীন ও অসাধু বিসিসি’র কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য, এমনটাই ধারনা নগরবাসীর। এলাকার বৈদ্যুতিক বাতি অচল এ মর্মে বিসিসি’র বিদ্যুৎ শাখায় বার বার অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেনা নগরবাসী। কিন্তু বিসিসি’র বিদ্যুৎ শাখার নির্বাহী প্রোকৌশলী হুমায়ুন কবিরের এ ব্যাপারে রয়েছে ভিন্ন মত।

তিনি নগরবাসীর অভিযোগের কথা স্বীকার করে বলেন, জনবলের চরম সংকট এবং ৩০টি ওায়ার্ডের বৈদ্যুতিক লাইট পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণের যথেষ্ট সরঞ্জাম নেই তাদের। যার কারণে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন বর্ষা মৌসুম তাই এ সময়টায় সব থেকে বেশি বৈদ্যুতিক বাতির প্রয়োজন। বর্ষার সামান্য পানি পড়লেই বাতিগুলো বিকল হয়ে পড়ে। কিন্তু বাতিগুলো সংরক্ষণেও নেই বিসিসি’র কোন পদক্ষেপ।

নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোলাম রব্বানী আছিফ বলেন, প্রায় ৫ মাস যাবত ১২ ও ২৪ নং ওয়ার্ডের মাঝখানের খ্রিস্টান পাড়ার সামনের সড়কের লাইট পোস্টের বাতিগুলো অচল। বিসিসিতে বারবার অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম, এই ওয়ার্ডের অনেক ভাঙ্গা রাস্তা রয়েছে যেখানে বৃষ্টির পানি জমে মরণ ফাঁদের সৃষ্টি হচ্ছে। নিচে হাঁটু সমান পানি উপরে অন্ধকার এমন অবস্থায় অনেক সময় এলাকাবাসীকে মারাত্মক দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়।

নগরীর কাউনিয়া ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ সবুজ বলেন, বাসার সামনের বাতিটি প্রায় ৩ মাস যাবৎ বিকল কাউন্সিলের কার্যালয় ও বিসিসিতে বার বার যাতায়াত করেও কোন ফল হয়নি।

বিসিসি’র বিদ্যুৎ শাখার তথ্য মতে, বরিশাল নগরীতে প্রায় ৩ হাজার লাইট পোষ্ট রয়েছে। যা সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সময় ২শ’ ৮ কোটি টাকা বরাদ্দের একটা অংশ দিয়ে করা হয়েছে। যেখানে প্রায় ১৬ হাজার বৈদ্যুতিক বাতি রয়েছে। আর এ সকল বাতির মধ্যে এনার্জি সেভিং বাল্ব, টিউব লাইটসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাতি রয়েছে। বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময় ২শ’ ২০টি লাইট পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। চলমান রয়েছে ২শ’ ১০টি, যার ১টি পোস্ট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। বিসিসি’র বিদ্যুৎ শাখা আরও জানান, এতগুলো বাতির পর্যবেক্ষণে রয়েছে মাত্র ৯ জন লাইন ম্যান ও ২ জন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসি’র এক কর্মকর্তা জানান, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সময় নগরবাসীর এমন অভিযোগ ছিলনা বললেই চলে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ শাখার প্রায় ৬৫ জন কর্মচারী ও কর্মকর্তা রয়েছেন। এরা সকলে যদি কাজ করে তবে ৩০টি ওয়ার্ডে সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া কঠিন কিছু হবেনা।

নগরীর ১২ নং ওয়ার্ডের এক ব্যবসায়ী কামাল বলেন, চলাচলের রাস্তা অন্ধকারে রেখে খ্রিস্টান পাড়া থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত সড়কটিতে স্থাপিত লাইট সচল রয়েছে। সেখানে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের এক আত্মীয়ের সমিল ও বাগান রয়েছে তাই।

বিসিসি’র বিদ্যুৎ শাখার প্রকৌশলী উমর ফারুক বলেন, কারও অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করলে ভাল হবে। কারণ কাউন্সিলরগণই এ বিষয় সাহায্য করবেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৫ এর মার্চ মাসে পিডিবি এবং বিসিসি’র যৌথ উদ্যোগে ২ কিলোমিটার রাস্তায় সোলার এবং ৩০ কিলোমিটার নন সোলার বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপিত হবে। যার সুবিধা বর্ধিত এলাকাবাসীও পাবে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি জানা ছিলনা, এখন খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।

Tags

আরও সংবাদ...

Back to top button