মেয়র হারিছসহ আওয়ামী লীগের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

গৌরনদী পৌর মেয়রসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে গৌরনদী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর মা তাপসী রানী গুহ বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো পাঁচ জনকে আসামী করা হয়।

আদালতের বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট তরুন বছার মামলাটি আমলে নিয়ে গৌরনদী থানার ওসিকে এজাহারভূক্ত করার নির্দেশ দেন।

মামলা আসামিরা হলো- গৌরনদী উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান (৪৬), উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাবেক পৌর কাউন্সিলর জামাল হোসেন বাচ্চু (৪৭), যুবলীগ নেতা আল-আমিন হাওলাদার ওরফে টেরা আলামিন (৪৩), দেলোয়ার হাওলাদার, (৩২), ছাত্রলীগকর্মী জিয়া হাওলাদার (২৫), শিমুল আকন, (৩০), জুলহাস সরদার (৩০), রাসেল হাওলাদার (৩১), রিপন বেপারী (২৮), দুলাল গোমস্তা (২৮), রায়হান বেপারী (৩২), মামুন বেপারী (৩৪), রাসেদ খান (২৫), কামাল খান, সুমন সরদার (৩২), আল-আমিন ওরফে কালা আলামিন (৩৪), সুমন চক্রবর্তী (৩০)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, বাদির বড় ছেলে মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু’র সাথে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। হারিছ বাহিনী একছত্র আধিপত্য বিস্তারের জন্য হারিছুর রহমান হারিছের হুকুমে আসামিরা বাদির ছোট ছেলে সলিল গুহ পিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে উদ্দেশ্যে গত ১৬ আগষ্ট রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হান্নানের চায়ের দোকানে হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিন্টুর মাথা, পা ও দু’হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যপুরী কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এতে পিন্টু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উদ্ধারে মাসুদ সরদার এগিয়ে এলে তাকের কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তারা। এ সময় আসামীরা ৫নং স্বাক্ষী হান্নানের দোকান ভাংচুর ও মালামাল তছনছ করে অনুমান ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনে পিন্টুকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে) প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে পিন্টু ঔই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Leave a Reply