বরিশাল

বরিশালে অনার্সে ৭ হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তি অনিশ্চিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি কলেজগুলোতে আসন সংকটে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী। প্রতি বছর এ ধরনের জটিলতায় পরার পর সামান্য আসন বৃদ্ধি করা হলেও অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী পছন্দের বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়।

সূত্র জানায়, বরিশাল বোর্ডে গত বছরের চেয়ে এ বছর ১ হাজার ৯শ’ ৯৮ জন পরীক্ষার্থী বেশি পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যাও গত বছরের চেয়ে ৩শ’ ৭২ জন বেশি। সেই তুলনায় আসন সংখ্যা তেমন বাড়ানো হয়নি।

বরিশালে সবচেয়ে বেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে সরকারি বিএম কলেজে। এ কলেজে ২২টি বিভাগে প্রায় ৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলাম শিক্ষা, ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শন, অর্থনীতি, মার্কেটিং, ফিনান্স, ব্যবস্থাপনা, হিসাব বিজ্ঞান, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, সমাজ কল্যাণ, জীব বিজ্ঞান, প্রাণী বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, মৃত্তিকা বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান রয়েছে। এসব বিভাগের সমাজ বিজ্ঞান, সমাজ কল্যাণে ৩শ’র মত আসন রয়েছে। বাকি বিভাগগুলোর অনেক বিভাগেই ২শ’ থেকে দেড়শ আসন রয়েছে। সবচেয়ে কম আসন রয়েছে ফিনান্সে মাত্র ৭০ আসন।

বণিজ্য বিভাগে  হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে সাড়ে ৩শ’ আসন থাকলেও পাস করা ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাধিক্য থাকায় বণিজ্য বিভাগে বেশি সংখ্যক আসন সংকট হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, আসন বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হবে। তার দেয়া হিসেব অনুয়ায়ী ২২ বিভাগে প্রায় ২শ’ থেকে আড়াইশ ছাত্র-ছাত্রী গত বছরের চেয়ে বেশি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে সংকট নিরসনের সম্ভাবনা খুবই কম।

এরপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮টি বিভাগে ১ হাজার ৩৪ আসন রয়েছে। এ বছর ১শ আসন বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান। তার ধারণা অনুসারে ৮ পয়েন্ট প্রাপ্তদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সুযোগ থাকলেও আবেদনের সংখ্যা অধিক বেশি হওয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের অনেকেই বাছাইয়ে বাদ পড়ে যায়। এ বছরও পাসের সংখ্যা ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এতে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ভাল রেজাল্ট করেও ভর্তি বঞ্চিত হতে পারে।

এরপর সরকারি মহিলা কলেজে প্রায় ৭শ’ ছাত্রী ভর্তি হবার সুযোগ রয়েছে। তবে এ কলেজে অজ্ঞাত কারণে বিজ্ঞান বিভাগে কোটা খালি থাকে বলে জানা যায়। অন্যান্য বিভাগে কোটা সংকট দেখা দেয়। এ বছর পাসের হার বেশি থাকায় ভর্তির আসন সংকট হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম এনায়েত হোসেন।

সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ও সরকারি বরিশাল কলেজ মিলিয়ে প্রায় ৮ থেকে ৯শ’ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি কলেজগুলোতে প্রায় ৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সুযোগ পাবে। যা ভাল রেজাল্ট পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় অনেক কম। এ কারণে ভাল রেজাল্ট করার পরও ভাল কলেজে ভর্তি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...