জাতীয়

আবারো সভামঞ্চে ঘুমিয়ে পড়লেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সভামঞ্চে বসে লম্বা ঘুম দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলি।

রোববার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের রাস্তার পাশে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় ঘুমিয়ে পড়েন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

বিকেল পৌনে পাঁচটায় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হওয়ার কিছু পরই তিনি হাই তুলতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মাঝেই তিনি তলিয়ে যান অতল ঘুমে। এঘুম যেনতেন ঘুম নয়, একেবারে নাকডাকা ঘুম। ফলে অনুষ্ঠানস্থলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

এর আগে গত ২৩ জুলাই রাজধানীর সমাজসেবা অধিদপ্তর মিলনায়তনেও একটি পরিচিতি সভা অনুষ্ঠানেও অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট সাংবাদিকদের সম্পর্কে মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন তিনি। সেসময় শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মৌলভীবাজার শহরের শ্রী শ্রী নূতন কালীবাড়ি প্রাঙ্গনে বর্নাঢ্য সংকীর্ত্তন শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাংবাদিক যারা, সবাই এক নয়। আব্দুস সালামসহ সব সাংবাদিকের প্রতি আমার সমালোচনা নেই। সমালোচনা হলো যারা পয়সা দিয়ে সাংবাদিক। তাদেরকে বলি দেশের জন্য সাংবাদিকতা করেন, দেশের মানুষের জন্য সাংবাদিকতা করেন। আমি বলবো আসুন, আমার সঙ্গে বসুন।

এর আগে গত ৯ আগস্ট সাংবাদিকদের চরিত্রহীন বলে পেছনে লোক লেলিয়ে দিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। সেদিন সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনায় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে মন্ত্রী বলেন, ‘এরা সবকটা খবিশ, চরিত্রহীন! স্বাধীন কমিশন হলে পরে দেখে নেবো তোমরা (সাংবাদিকেরা) কতটুকু যেতে পারো!’

তার এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জন করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। এ সময় তারা মন্ত্রীর সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সভাস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। সৈয়দ মহসিন আলী তখন সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমার শ্বশুরবাড়ি সিলেটে। সাংবাদিকদের পেছনে সিলেটের মানুষ লেলিয়ে দিতে আমার সময় লাগবে না।’

এরপরই দেশের আপামর সাংবাদিকসমাজ থেকে শুরু করে সর্বস্তরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণসহ গ্রেপ্তারের দাবিও জানায় সাংবাদিক নেতারা। পরবর্তীতে নিজের পক্ষে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

এরপর গত ১১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীকে তার মন্তব্যের জন্য সতর্ক করে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেসময় প্রধানমন্ত্রী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাকে নিয়ে এত লেখালেখি কেন? কী হলো আপনার? মঞ্চে সিগারেট খেলেন, পত্রিকায় আসলো। এরপর সিগারেট ছেড়েও দিলেন। এগুলো তো আপনার জন্য ভালো।

উত্তরে মহসিন আলী বলেন, স্থানীয় দু’একজন সাংবাদিক আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) ও অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন কথা বলে, আমি উত্তেজিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, খবিশ, রাবিশ কাছাকাছি শব্দ। এভাবে খবিশ বলা কোথায় পেলেন?

মহসিন আলী তাৎক্ষণাৎ জবাব দেন- খবিশ, রাবিশ এক জায়গা থেকেই এসেছে কি না- তাই।

এর আগে গত ২২ জুলাই নিজ মন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেছিলেন, এমন আইন করা হচ্ছে যে তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকবে না।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...