অন্তরাকে বাঁচান

আবিদ রহমান, মেলবোর্ণ থেকে:
আশির নব্বুই দশকের তুমল তুখোড়, রিপোর্টার আশরাফ খান। তিনি আশি-নব্বুই দশকে দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকতায় পা-রাখা উৎসাহীদের আইডল ছিলেন। ছিলেন অনুপ্রেরণার অফুরন্ত ভান্ডার। দিশারী। অভিভাবক। বিভিন্ন দৈনিকের আংগিনা ঘুরে আশরাফ খান এখন দৈনিক সমকাল-এ থিতু।
আশরাফ ভাইয়ের ফকিরাপুলের বাসায় কার না যাতায়াত ছিলো? ভাবীর হাতের রান্নার স্বাদ নেননি কে? আপনাদের নিশ্চয় অন্তরাকে মনে আছে। অন্তরা আশরাফ ভাই-ভাবীর একমাত্র কন্যা। সেই দিনের শিশু অন্তরা আজ যুবতী। তবে চোখে রংগিন স্বপ্ন নেই। অন্তরার অসুস্খ ধূসর চোখে এখন দুরারোগ্য ব্যাধির যন্ত্রনা। অন্তরার দুটো কিডনী প্রায় অকেজো। মাত্র বিশ ভাগ কাজ করে।
আশরাফ ভাই ধার-দেনা করে একবার সিংগাপুর নিয়েছিলেন। টাকার অভাবে চিকিৎসার শেষ না দেখে বিধ্বস্ত পিতা আশরাফ খান দেশে ফিরেছেন হতাশায়। দেশে আশরাফ ভাইর অনেক জানা-শোনা। প্রভাব-প্রতিপত্তি। ঢাকায় হয়তো প্রায় নি:খরচায় চিকিৎসার ব্যবস্খা হতো কিন্তু হায় ঢাকায় এত মারাত্মক অবনতির রোগীর যোগ্য চিকিৎসার ব্যবস্খাদি নেই। দিন এনে দিন খাওয়া সাংবাদিক আশরাফ খানের একমাত্র ভরসা বাড়ীর কাছের ভারতের ব্যাংগালোর। কিন্তু বিনে পয়সায় তো কিছু হবেনা। আমাদের অনেকের জন্যে অনেক কিছু করা, ত্যাগী আশরাফ খান আজ অনেকের দরোজায় ধর্ণা দিচ্ছেন। এক কালের দাতা এখন নিজেই সাহায্যপ্রার্থী!
জানি আশরাফ ভাই মন্ত্রী-মিনিষ্টার-রাজনীতিবিদদের দরোজায় কলিং বেল চাপলে কিছুটা সহায়তা হয়তো পাবেন কিন্তু অভিমানী ও আত্মমর্যদাশীল আশরাফ খান সে পথে পা-বাড়াবেন না। তবে কি আশরাফ ভাইর একমাত্র সন্তানের জীবন প্রদীপ এতো সহসাই নিভে যাবে? আমরা একসময় সাংবাদিকতার সাথে ছিলাম, যারা ছিলাম আশরাফ খানের ছাত্র-শিষ্য-সহকর্মী আমরা কী পারিনা, সহায়তার হাত প্রশস্খ করতে? একশ ডলার বাংলাদেশের জন্যে অনেক হলেও প্রবাসী এইসব সংবাদকর্মীর কাছে উইক এ্যন্ডের খরচা। আসুন না, আমাদের একটি উইক এ্যন্ড আশরাফ ভাইয়ের সম্মানে উৎসর্গ করি। কোথাও কি কেউ আছেন, ভাই? আপনাদের দিব্যি দিচ্ছি, কিছু একটা করুন। নিজের পক্ষে সম্ভব না- হলে বৃহত্তর কমিউনিটিকে সাথে নিন। প্লিজ।