জাতীয়

খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন: আইনজীবী

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী দুই মাসের মধ্যেই নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন এবং বিচারিক আদালতে জামিন চাইবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন।

বুধবার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার রায় প্রকাশের পর সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা চলবে-এই মর্মে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এতে রায় প্রকাশের ৬০ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাহবুবউদ্দিন খোকন অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চলমান রেখে রাজনীতি করতে চাইছে। কারণ, সরকারের কোনো জনসমর্থন নেই। মামলাই হচ্ছে তাদের একমাত্র অস্ত্র। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভার ক্রয়কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী তাদের সম্মতি দেন। এখানে দুর্নীতির কোনো বিষয় নেই। কারণ সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী মন্ত্রিসভার ক্রয়কমিটির প্রস্তাবে সম্মতি দিতে হয়।’

মাহবুবউদ্দিন আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা চলতে পারে না। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দিষ্ট সময়ে আপিল করা হবে।’

মামলার নথি থেকে জানা যায়, চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অফ চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার মধ্য দিয়ে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি করেছেন।

এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় সাবেক চার দলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ১০ মন্ত্রীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলা করা হয়।

খালেদা জিয়া মামলাটি বাতিলের আবেদন করলে ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে। হাইকোর্টের ওই আদেশ আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় আটকে যায় বিচারিক কার্যক্রম।

সাত বছর পর চলতি বছরের শুরুতে দুদক মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নিলে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। গত ৫ আগস্ট হাইকোর্ট খারিজাদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে মামলার কার্যক্রমের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলাটি বৈধ মর্মে রায় ঘোষণা করে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply