আন্তর্জাতিকজাতীয়

নিজামীকে সর্বোচ্চ খেতাব দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন পাঞ্জাব পরিষদে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে সর্বোচ্চ খেতাবে ভূষিত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার পাঞ্জাব পরিষদে নিজামীকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ এ ভূষিত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে ‘দুনিয়া টিভির’ এক সংবাদে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সদস্য আলাউদ্দিন শেখ মঙ্গলবার পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদে ওই প্রস্তাব তোলেন।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়, পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ফাঁসি হচ্ছে। তাই তাদের ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননায় ভূষিত করা উচিত।

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ১১ মে জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিজামী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি। সেই সূত্রে তিনি আল বদর বাহিনীরও নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতায় ওই বাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা দেয় এবং ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ ঘটায়। যুদ্ধের শেষভাগে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবী হত্যার নকশা বাস্তবায়ন করা হয় আল-বদর বাহিনীর মাধ্যমেই। আর সেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হন নিজামী।

এর আগে নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদেই একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছিল।

ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা মেহমুদুর রশিদের আনা ওই নিন্দা প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের প্রতি ‘ভালোবাসার’ কারণেই বাংলাদেশে জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে তুলে ধরতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই প্রস্তাবে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর প্রধান সিরাজ-উল হক সে সময় বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভারত সরকারের নির্দেশনায়’ কাজ করছেন।

নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পার্লামেন্টেও একটি প্রস্তাব পাস হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সে সময় বলা হয়, ‘পাকিস্তানের সংবিধান সমুন্নত রাখাই নিজামীর একমাত্র অপরাধ।’

নিজামীর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মো. কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়ও একই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল পাকিস্তান।

ইসলামাবাদের এই প্রতিক্রিয়াকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বিবেচনা করে এ বিষয়ে নাক না গলাতে বলা হয় ঢাকার পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের ওই অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ড্রোন হামলায়ে যেসব পাকিস্তানির মৃত্যু হয়েছে তাদেরকেও নিশান-ই-পাকিস্তান খেতাবে ভূষিত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply