গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বরিশালের সরকারি গৌরনদী কলেজের ডিগ্রি পাশ পরীক্ষা ২০১৭র ফরম পুরনকারী ৩১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পুরন বাবাত প্রায় ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছে কলেজ ছাত্রীলীগের কথিত নেতা ও ছাত্র সংসদের সমাজ সেবা সম্পাদক ইব্রাহিম বাবু। হিসাব সহকারীর স্বাক্ষর জাল করে ফরম নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রদান করে টাকা আত্মসাত করেছে। ওই ৩১ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ, প্রতারিত শিক্ষার্থী ও সংশ্লিস্টরা জানান, গত ২৪ নভেম্বর (২০১৬) সরকারি গৌরনদী কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ পরীক্ষার অংশ গ্রহন ইচ্ছুক ছাত্র ছাত্রীদের ফরম পুরন শুরু হয়। ফরম পুরনের শেষ সময়সীমা ছিল গত ১৮ ডিসেম্বর। অফিস সহকারী মো. আজাহার আলী সরদার জানান, ডিগ্রী পাশ পরীক্ষর ফরম পুরনে নিদৃষ্ঠ সময় সীমার মধ্যে তার কাছে ফরম পুরনের নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে পরীক্ষা কমিটির  সদস্য প্রভাষক মো. মনির হোসেনের কাছ থেকে অনলাইনে নিশ্চয়নে ফরম সংগ্রহ করবেন।

আজাহার আলী অভিযোগ করে বলেন, আমি ৫১৭ জন শিক্ষার্থীর ফরম পুরন বাবত টাকা গ্রহন পূর্বক পরীক্ষা কমিটির সদস্য অনলাইন নিশ্চয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রভাষক মো. মনির হোসেনের কাছে পাঠিয়েছে। কিন্তু মনির স্যারের কাছে ৫৪৬ জন শিক্ষার্থী ফরম গ্রহন করে নিশ্চয়ন করতে যান। এসময় ফরমের সঙ্গে ক্যাসের অমিল থাকায় ছাত্রলীগ নেতার জালিয়াতি ধরা পরে।

একাধিক অফিস সহকারী জানান, জমাকৃত ফরম পরীক্ষা নিরীক্ষান্তে দেখা গেছে অফিস সহকারী আজাহারের স্বাক্ষর জাল করে ফরম পুরনের টাকা গ্রহন পূর্বক জাল রশিদ দিয়ে ৩১ জন শিক্ষার্থী ফরম জমা দেন। পরে ওই সকল শিক্ষার্থীদের তলব করে জালিয়াতির রহস্য ফাঁস হয়ে যায়। শিক্ষর্থীরা জানান, কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও ছাত্র সংসদের সমাজ সেবা সম্পাদক ইব্রাহিম বাবু(২০) তাদের ফরম পুরনের টাকা নিজেই জমা নেন এবং আমাদের ফরম দেন। আমাদের টাকা নিজে গ্রহন করে কলেজ ক্যাসে জমা না দিয়ে নকল রশিদের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করবে এটা আমাদের ধারনা ছিল না। তারা আরো জানান, ফরম পুরনের শেষ সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এখন আমাদের পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে মধ্যে পড়েছি। শিক্ষার্থীদের ফরম পুরন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকগন।
প্রতারনার শিকার ১০ শিক্ষার্থী জানান, ফরম পুরনে কিছু আর্থিক সুবিধা (কম টাকায়) পাওয়ার জন্য তারা কথিত ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম বাবুর কাছে যান। এসময় ইব্রাহিম বাবু তাদের কাছ থেকে ২৯৮৫ টাকা ও কারো কারো কাছ থেকে ২২০০ টাকা নিয়ে তাদের রশিদ দিয়ে ফরম পুরন করে দেন। ওই রশিদ যে জাল তা তাদের জানা ছিল না। তারা আরো বলেন, আমরা ছাত্র সংসদের সমাজ সেবা সম্পাদক ইব্রাহিমের কাছে  টাকা জমা  দিয়ে পরম পুরন করেছি। সে যে জালিয়াতি করে বিপদে ফেলবে তা বুঝতে পারিনি। এখন আমার পরীক্ষা নিয়ে হতাশার মধ্যে আছি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা ও ছাত্র সংসদের সমাজ সেবা সম্পাদক ইব্রাহিম বাবু বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে কতিপয় লোকজন অপপ্রচার করেছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়েরুল ইসলাম সান্টু ও কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাতুল শরীফের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ইব্রাহিম বাবু ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়।

এ প্রসঙ্গে কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ছাত্র সংসদের ভিপি সুমন মাহমুদ বলেন, ছাত্রলীগে ও ছাত্র সংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করে কেউই পার পাবে না। অন্যায়কারী যে হোক তার বিচার হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অফিস সহকারী আজাহারের স্বাক্ষর জাল করে রশিদ দিয়ে জালিয়াতির কথা স্বীকার করে বলেন,  দুই দিনের মধ্যে কলেজ ক্যাসে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply