দ্বিধা বিভক্তির কারনে বিএনপির মহাসমাবেশে যাচ্ছেন না তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী
৫০টি গাড়ি-১২টি তোরন নির্মানসহ ব্যানার তৈরীর সিদ্ধান্ত
গৌরনদী অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আগমনকে ঘিরে আগামি ১২ মে বরিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষে গৌরনদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ দ্বিধাবিভক্তি হয়ে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করলেও আগৈলঝাড়ায় এখনো কোন প্রস্তুতি সভা হয়নি। গৌরনদীর প্রস্তুতি সভায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর প্রবেশদ্বার ভূরঘাটা বাসষ্ঠ্যান্ড থেকে বাটাজোর পর্যন্ত ১২ টি তোরন নির্মান, আগামি ১২ মে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বরিশালের যাওয়ার জন্য ৫০টি গাড়ি বহরসহ ব্যানার তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। দলীয় সূত্র মতে, আগৈলঝাড়ার নেতা-কর্মীদের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ২টি করে গাড়ি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বরিশাল শহরে বসে। বরিশালের রাজনৈতিক সচেতন বলেখ্যাত এ দু’উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে তৃনমুল পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মীরা মহাসমাবেশে যোগদান করবেন না বলেও জানিয়েছেন।সূত্রে আরো জানা গেছে, আগামী ১২ মে বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন। এ উপলক্ষে বরিশাল জেলার প্রতিটি উপজেলায় মহাসমাবেশকে সফল করার লক্ষে পৃথক পৃথক প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটেছে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির ক্ষেত্রে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে দলের অসংখ্য নেতা-কর্মীরা জানান, এ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম. জহির উদ্দিন স্বপন সংস্কারপস্থি দলে যোগদেয়ায় নবম সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে দলের মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পরেন স্বপন সমর্থকরা। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত চারদলীয় জোটের প্রার্থী সোবাহান মহাজোট প্রার্থীর কাছে পরাজয়ের পর দলীয় নেতা-কর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পরেন। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়েও একাধিক নাটকীয় ঘটনা ঘটে।
স্বপনের সমর্থকদের বাদ দিয়ে দু’উপজেলায় বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। একতরফা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’উপজেলায় বিএনপির দু’গ্র“পের মধ্যে একাধিকবার হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটেছে। গত শুক্রবার বিকেলে গৌরনদীতে বিএনপির যৌথ প্রস্তুতি সভায়ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্র“পের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রবিবার বিকেলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ ত্রিধা বিভক্ত হয়ে প্রস্তুতি সভা করায় তৃনমূল পর্যায়ের বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরেছেন মহাবিপাকে। আর দলের মধ্যে এ দ্বিধা বিভক্তির কারনেই বিএনপির তৃনমুল পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী ও সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপনের সমর্থকরা আগামি ১২ মে বরিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশে অশংগ্রহন করবেন না বলেও জানিয়েছেন।
অপরদিকে মহাসমাবেশকে সফল করার লক্ষে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) নির্বাচনী এলাকার বিএনপির পরাজিত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুস সোবাহান দু’উপজেলায় ব্যাপক পোষ্টারিংসহ দিনরাত নেতা-কর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মহাসমাবেশে রাজনৈতিক সচেতন বলেখ্যাত গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া থেকে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটাতে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আকন কুদ্দুসুর রহমান, গৌরনদী পৌর বিএনপির সভাপতি ও আশির দশকের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা এস.এম মনির-উজ-জামান মনির, বরিশাল জেলা (উত্তর) যুবদলের সাধারন সম্পাদক বদিউজ্জামান মিন্টু ও তাদের সমর্থকরা দিনেরাতে সমান ভাবে বিএনপির তৃনমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশেষ্ণদের মতে, আওয়ামীলীগ সমর্থিত মহাজোট সরকারের আমলে তাদের (বিএনপির) নিজেদের অভ্যন্তরীন কোন্দল ছাড়া প্রকাশ্যেই শান্তিপূর্ণ ভাবে বিএনপির সকল কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। এ কথার সত্যতা স্বীকার করেছেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা দলের সভাপতি শরীফ হাফিজুর রহমান টিপু। রাজনৈতিক বিশেষ্ণরা আরো জানান, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের চতুর্থ বছরে বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বনার্ঢ্য র্যালী বের করলে সেই র্যালীতে বিএনপি সমর্থিতরা অর্তকিত ভাবে হামলা চালিয়ে পুলিশের এ.এস.পি সার্কেলসহ প্রায় তিনশতাধিক আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছিলেন। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রি ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলে সফরের সময় তার গাড়িবহর গৌরনদী বাসষ্ঠ্যান্ডে পৌঁছলে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা গাড়ি বহরে হামলা পর্যন্ত করেছিলেন।