গৌরনদী সংবাদ

স্ত্রীকে শিকল দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা

যৌতুকের দাবিতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ননের শরীফাবাদ গ্রামে স্ত্রীকে শিকল দিয়ে বেঁধে লোহার গরম রড ও খুনতি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছ্যাকা দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে পাষন্ড স্বামী। মুর্মুর্ষ অবস্থায় গৃহবধূ তাসলিমা বেগমকে (২৮) বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্যাতিতার মা জাহানারা বেগম বাদি হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

নির্যাতিতা, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানান, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের যুগীহাটি গ্রামের আজিজ হাওলাদারের কন্যা তাসলিমা বেগমের ১৬ বছর পূর্বে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ গ্রামের মৃত ওহাব আলী মৃধার পুত্র ও প্রটকল (ভাড়ায় মোটরসাইকেল) চালক বাদল মৃধার (৩৮)র সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর নছিমন ক্রয়ের জন্য তাসলিমার বাবা ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দেন। পরবর্তীতে ১ লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য প্রায়ই তাছলিমা শারীরিক ও মানসিক নিযার্তন করে আসছে।

আহত তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে বাদল মৃধা এবং তার দেবর লাল মিয়া মৃধা যৌতুকের জন্য মারপিট শুরু করেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতান্ডার এক পর্যায়ে আকস্মীকভাবে তাকে বিবস্ত্র করে লাঠি দিয়ে পোটাতে থাকে এবং বেঁধে ফেলে।

তিনি বলেন, আমার স্বামী বাদল ও তার ভাই পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে অমানবিকভাবে লোহার গরম রড ও খুনতি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছ্যাকা দেয়ার পর ক্ষতস্থানে লবন এবং মরিচের গুড়া ছিটিয়ে নির্যাতন করে। তখন আমি পানি পানি করে চিৎকার করলে স্বামী বাদল তাকে বিষ মেশানো জুস পান করানোর চেষ্টা করে। আমি ওই জুস খেতে না চাইলে আমার উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

নির্যাতিতা মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতভর নির্যাতন করে বিনা চিকিৎসায় আমার কন্যা তাসলিমাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। বুধবার বিকেলে স্থানীয়দের কাছে থেকে খবর পেয়ে আমি ও আমার স্বামী কন্যা তাসলিমাকে উদ্ধারের জন্য শরিফাবাদ গ্রামে আসলে জামাতা বাদল মৃধা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আমরা ডাক চিৎকার দিয়ে এলাকাবাসীকে জড়ো করে তাদের সহায়তায় তাসলিমাকে মুর্মুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে বুধবার রাতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ভর্তি করি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বামী বাদল মৃধা বলেন, আমার স্ত্রী সঙ্গে প্রতিবেশী নুর মৃধার পুত্র আল আমিনের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে যে কারণে তার সঙ্গে আমার প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হয়। ঘটনার দিন তাসলিমা আল আমিনের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে শিকল দিয়ে বেধে তার বাবা মার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লোহার গরম রড ও খুনতি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে ছ্যাকা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

এ প্রসঙ্গে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ কবির বলেন, এ ঘটনায় নির্যাতিতা মা জাহানারা বেগম বাদি হয়ে বাদল মৃধা ও লাল মিয়া মৃধাকে আসামি করে বৃহস্পতিবার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...