সংবাদ

মালয়েশিয়ায় বন্দি গৌরনদীর যুবকের আত্মহত্যার হুমকি

বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্বেও মালিকের খামখেয়ালী পনায় সকল কাগজপত্র আটকিয়ে রাখায় অবৈধ হিসেবে মালয়েশিয়ার সিপাংগি সিলাংগোয়ার এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ডিপো থানার ইমিগ্রেশন কেএলআইএ ক্যাম্পে গত দু’মাস ১৭দিন পর্যন্ত দুর্বিসহ বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশী যুবক মুকুল সরদারসহ আরো ৩০ যুবক।

জানা গেছে, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা স্ব-স্ব দেশের বন্দিদের ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলেও এখনও মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তারা বন্দিদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। ফলে অর্ধাহারে অনাহারে দুর্বিসহ জীবন যাপন করে নিজেকে আর সামাল দিতে না পেরে বন্দি বাংলাদেশের বরিশালের গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামের যুবক মুকুল সরদার এ প্রতিনিধিকে ফোনে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন। মুকুলের বন্দি কয়েদী নাম্বার (১৪২৯)।

এদিকে পুত্রকে বন্দি জীবন থেকে ছাড়িয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে মুকুলের বৃদ্ধা মা খাদিজা বেগম বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী ও ব্র্যাকের নিরাপদ অভিবাসন সহয়তা প্রকল্পের কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্রমতে, গেরাকুল গ্রামের মৃত সোবাহান সরদারের পুত্র মুকুল সরদার অভাবী সংসারের দারিদ্রতা জয় করতে গত সাত বছর পূর্বে মালেশিয়া গমন করেন (পাসপোর্ট নং-এফ ০৯০০১৫৬)। সেখানে দীর্ঘদিন থেকে মুকুল মালয়েশিয়ার একটি দোকানে কর্মরত ছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য দোকানের মালিকের কাছে তার চাহিদা অনুযায়ী নগদ টাকা ও সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন মুকুল। মালিক কাজগপত্র নিয়ে নানা তালবাহানা করে অবৈধ হিসেবে (গত দু’মাস ১৭দিন পূর্বে) কৌশলে পুলিশের কাছে মুকুলকে ধরিয়ে দেয়। সেই থেকে মুকুল মালেশিয়ার সিপাংগি সিলাংগোয়ার এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ডিপো থানার ইমিগ্রেশন কেএলআইএ ক্যাম্পে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (+৬০১৬৯৩১২৫৫৩) নাম্বার মোবাইল ফোন থেকে মুকুল কান্নাজড়িত কন্ঠে এ প্রতিনিধিকে জানায়, তার সাথে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার আরো ৩০ যুবক রয়েছেন। এছাড়া তার সাথে গ্রেফতার হওয়া বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের ইতোমধ্যে স্ব-স্ব দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছাড়িয়ে নিয়ে গেলেও এখনও মালেশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। অথচ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে তারা বন্দি জীবন থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরতে পারেন। এ ব্যাপারে মুকুলসহ অন্যান্য বন্দিরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী ও ব্র্যাকের নিরাপদ অভিবাসন সহায়তা প্রকল্পের কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...