বরিশাল

আ.লীগের সামনে হাসানাত আবদুল্লাহ, পেছনেও তিনি

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বরিশাল আওয়ামী লীগের সবকিছু। কয়েক বছরে দলের বেশির ভাগ কমিটিই হয়েছে তাঁর পছন্দে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাঁর ভূমিকাই মুখ্য। অন্যদিকে বরিশাল বিএনপিতে রয়েছে বিভক্তি। একসময় একক নিয়ন্ত্রণ ছিল মজিবর রহমান সরোয়ারের। এখন বিলকিস জাহান ও এবায়দুল হক চানও প্রতিদ্বন্দ্বী।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র শওকত হোসেনের (হিরণ) মৃত্যুর পর বরিশাল আওয়ামী লীগের একক নেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। অনুসারীদের মতে, তিনিই এখন আওয়ামী লীগের বরিশাল অঞ্চলের অভিভাবক।

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কিন্তু দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, গত কয়েক বছরে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা ও ৪২টি উপজেলায় বেশির ভাগ কমিটিই হয়েছে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পছন্দে। উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল। কেবল ঝালকাঠি ও ভোলায় তাঁর হস্তক্ষেপ কম। কারণ, ঝালকাঠি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও ভোলা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের এলাকা।

দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, গত অক্টোবরে ৭১ সদস্যের বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যে কমিটি করা হয়, এর প্রায় সবাই আবুল হাসানাতের অনুসারী বলে পরিচিত। কমিটিতে প্রয়াত হিরণের ঘনিষ্ঠজনদের কৌশলে বাদ বা কম গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। এই কমিটির সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদকের পদ পান এ কে এম জাহাঙ্গীর। কমিটিতে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়। দলের নেতারা বলছেন, এর নেপথ্যে ভূমিকা ছিল সাদেকের বাবা হাসানাত আবদুল্লাহর। মহানগর আওয়ামী লীগের দৃশ্যত সামনে আছে সাদিক আবদুল্লাহ। কার্যত বরিশালে আওয়ামী লীগের সামনে-পেছনে সবখানেই আছেন হাসানাত আবদুল্লাহ। তিনি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

অবশ্য সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘সমালোচকেরা তো কত কিছুই বলে। বাবার আগে কখনো কি ছেলে হয়? বাবাই আগে, আমি তাঁর পেছনে।’

২০১২ সালের ডিসেম্বরে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি হন শওকত হোসেন হিরণ, সাধারণ সম্পাদক হন আফজালুল করীম। কিন্তু হিরণের মৃত্যুর পর পুনর্গঠিত নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান আফজালুল করীম। এবার সাধারণ সম্পাদক করা হয় আফজালুল করীমের সঙ্গে ভোটে হেরে যাওয়া এ কে এম জাহাঙ্গীরকে। আফজালুলকে নতুন কমিটিতে সহসভাপতির পদ দেওয়া হয়।

স্থানীয় নেতারা বলছেন, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ইচ্ছায় এমনটা হয়েছে। আফজালুল করীম বলেন, ‘কাউন্সিলে আমি ২১৩ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক হই। এ কে এম জাহাঙ্গীর পান ৭০ ভোট। আমাকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

এ ব্যাপারে জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বড় ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, এটা যাঁরা করেছেন, তাঁরাই ভালো বলতে পারবে। তবে তাঁকে যেখানে রাখা হয়েছে, সেটা সম্মানজনক।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরীকে নিয়েও দলে সমালোচনা আছে। তিনি বরিশালে থাকেন না। ১৬ বছর ধরে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। গোলাম আব্বাস বলেছেন, ‘হাসানাত ভাই (আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ), মজিবুর রহমান সরোয়ার, আহসান হাবিব কামাল, জেবুন্নেছা আফরোজ-সবাই তো ঢাকায় থাকেন। আমি থাকলে দোষ কী?’

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দুই অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগে চলছে সাংগঠনিক স্থবিরতা। মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান। অনেক দিন ধরে তাঁরা এলাকায় নেই। কথিত আছে, ছাত্রলীগের এই দুই নেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পছন্দের না হওয়ায় তাঁরা এলাকায় থিতু হতে পারেননি। কিছুদিন আগে জসিম বরিশালে ফিরলে তিনি শহরের পোর্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন। এরপর এলাকা ছাড়েন।

যুবলীগের জেলা কমিটির সম্মেলন হয় ২৩ বছর আগে ১৯৯৩ সালে। এতে জাকির হোসেন সভাপতি আর আফজালুল করিম (শাহীন) সাধারণ সম্পাদক হন। এই কমিটি এখন বহাল আছে। নিজানুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে মহানগর যুবলীগের ৫৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয় ২০০৪ সালের মাঝামাঝি। তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি চলছে ১৩ বছর ধরে। সম্প্রতি নতুন করে জেলা ও মহানগর যুবলীগের দুটি কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, যাঁদের নাম ওই কমিটিতে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাঁরাও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অনুসারী।

প্রথম আলো


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...