আন্তর্জাতিক

দু’দেশের সম্পর্কে জেরুজালেম বাধা নয়: ভারতে নেতানিয়াহু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার পর এর বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ভোট দিয়েছে ভারত। এরপরেই ইসরায়েল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ৩ হাজার ১৮৬ কোটি টাকার চুক্তি বাতিল করে নয়াদিল্লি। দু’দেশের সম্পর্কের এই টানাপড়েনের মধ্যেই সোমবার ছ’দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এ সময় কূটনীতির সব প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে পৌঁছে তাকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক পর্যায়ে নেতানিয়াহুকে বুকে জড়িয়ে ধরেন মোদি। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ভারসাম্য রাখতে নয়াদিল্লি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কী ধরনের চুক্তিতে এগোয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

দিল্লিতে পৌঁছেই জাতিসংঘে ভারতের ভোটের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, জেরুজালেম নিয়ে একটা ভোটে দু’দেশের সম্পর্ক বদলে যাবে না। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের গোয়েন্দাবাহিনী বিশ্বের সেরা। ইসরায়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ বছরই বিমান হামলার প্রায় ৩০টি ঘটনা আটকানো গেছে। ভারতের মতো মিত্র দেশের সঙ্গে আমরা সব সময়েই এই ধরনের তথ্য আদানপ্রদান করব।

নেতানিয়াহুর সফরকে সফল করতে দু’দেশের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার দিল্লির তিন মূর্তি মার্গের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘তিন মূর্তি হাইফা চক’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইসরায়েলের হাইফা শহরটিকে মুক্ত করতে ভারতীয় সেনারা যুদ্ধ করেছিল। সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতে মূর্তির নাম পরিবর্তন অনুষ্ঠানে দুই রাষ্ট্রনেতাই উপস্থিত ছিলেন।

এখন দিল্লিতে কয়েকটি বৈঠক সেরে মুম্বাই, আগ্রা যাবেন নেতানিয়াহু। যাবেন মোদির রাজ্য গুজরাটেও। তার সফরের অধিকাংশ সময়েই সঙ্গী থাকবেন নরেন্দ্র মোদি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসেছে ১৩০ সদস্যের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। তাদের নিয়ে নেতানিয়াহু দেখা করবেন মুম্বাইয়ের শিল্পপতিদের সঙ্গে। গুজরাটের ভাদরাদে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রেও যাবেন তারা।

ভারত আশা করছে, সফরে দু’দেশের মধ্য বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার হবে। সাইবার নিরাপত্তা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস, অপ্রচলিত শক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও রয়েছে দু’দেশের।

মোদির ইসরায়ল সফরের ছ’মাসের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এ সফর ঘিরে ভারতীয় কূটনীতিকদের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে। ১৫ বছর আগে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন এসেছিলেন দিল্লিতে। এরপর চলেছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ঘিরে নয়াদিল্লির ভারসাম্য কূটনীতি। গত বছর মোদির সফরে নেতানিয়াহুর আতিথেয়তা সেই সম্পর্কে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল।

এবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সফরের শুরু থেকেই একে সফল করার চেষ্টায় দু’দেশ। নয়াদিল্লিতে পা দেওয়ার আগেই নেতানিয়াহু ভারতকে ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী দেশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ঐতিহাসিক সফরে তিনি ‘বন্ধু মোদি’র সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন। মোদিও টুইটারে নেতানিয়াহুকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নেতানিয়াহু’র সফরের মধ্যেই এ সপ্তাহে মুম্বইয়ে পা রাখতে চলেছে ইসরায়েলের কিশোর মোশে হোলৎসবার্গ। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলায় নারিম্যান হাউসে চোখের সামনে বাবা-মাকে হারিয়েছিল এই শিশু। গত বছর ইসরায়েল সফরের সময়ে মোশেকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। এখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও ভারতের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে ১১ বছরের কিশোরটি।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...