আর্কাইভ
ক্ষুধা আর দারিদ্রতা সাফল্যে বাঁধা হতে পারেনি
দারিদ্রের সাথে পাল্লা দিয়ে মেধা চর্চার লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে রফিক
গৌরনদী অফিস ॥ বরিশালের অগৈলঝাড়া উপজেলার ভালুকসী গ্রামের হতদরিদ্র রিকসা চালক মোঃ সোবাহান ফকিরের পুত্র অদম্য মেধাবী মোঃ রফিকুল হাসান এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ক্ষুধা আর দারিদ্রতা তার সাফল্যে বাঁধা হতে পারেনি। চরম দারিদ্রতার সাথে পাল্লা দিয়ে মেধা চর্চার লড়াইয়ে রফিক জয়ী হয়েছে। ভবিষ্যতে রফিক সেনা কর্মকর্তা হতে চায়।রিকসা চালকের পুত্র মোঃ রফিকুল হাসান অগৈলঝাড়া উপজেলার ভালুকসী মাধ্যমিক বিদ্যাালয়ের শিক্ষক মোঃ জহির উদ্দিন বিএসসি ও গোবিন্দ চন্দ্র নাগের সহযোগীতায় বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে থেকে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে এ সাফল্য অর্জন করেছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে বানিজ্য বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
মোঃ রফিকুল হাসান জানায়, ওই দুই শিক্ষক বিনা বেতনে তাকে প্রাইভেট পড়িয়েছে। বিনা বেতনে তাকে স্কুলের ছাত্রাবাসে থাকতে দিয়েছে। শু
ধুমাত্র খাওয়ার খরচ দিতেন তার চাচা রিকসা চালক সিরাজ ফকির। রফিকের রিকসা চালক পিতা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় থাকেন। ৫ সদস্যের পরিবারে তাদের সংসার চলে অর্ধাহারে-অনাহারে। ২ ভাই ১ বোনের সংসারে রফিকই সবার বড়। ছোট ভাই শফিক (১৩) ৩য় শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করে টাকার অভাবে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে এখন ঢাকার মীরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে এক হাজার টাকা বেতনে কাজ করছে। সেও মেধাবী কিন্তু টাকার অভাবে পিতা মাতা তাকে লেখাপড়া করাতে পারছেনা। মা রহিমা বেগম অন্যের বাসায় ঝি এর কাজ করছে। এভাবেই তাদের সংসার চলছে। ভাল ফলাফল করেও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়েনি রফিকের। এখন তার কলেজের লেখাপড়ার খরচ নিয়ে রিতীমতো হিমশিম খেতে হয়।
