বরিশাল

ম্যাজিষ্ট্রেট কবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ কবির উদ্দিন প্রামানিক এর জালিয়াতির বিচার চেয়ে আইন ও বিচার বিভাগ সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর সচিব, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন’র চেয়ারম্যান, জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন’র সচিব, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, বরিশাল পুলিশ কমিশনার, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এম. লোকমান হোসাঈন।

দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা’র পক্ষ থেকে জানা গেছে চলতি মাসের ২১ শে মার্চ প্রকাশক ও সম্পাদক লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বরিশাল থেকে প্রকাশিত স্বাধীনতার স্বপক্ষের গণমানুষের দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক তিনি। উক্ত পত্রিকাটি তার সম্পাদনায় নিয়মিতভাবে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল জেলা পরিষদের বেশ কিছু দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেন। উক্ত সংবাদের প্রতিবাদে তিনি সহ তার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ ও যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩০/০১/২০১৯ ইং তারিখ বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম বাদী হয়ে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ কবির উদ্দিন প্রামানিক এর আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানির একটি মামলা দায়ের করেন। এসময় উক্ত মামলায় ২০১৮ সনের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৬ এর ২৫/২৯ ধারায় এবং দঃ বিঃ আইনের ৫০০,৫০১, ৫০২ ও ১০৯ ধারা উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফ.আই.আর হিসাবে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। যাহার নালিশী মামলা নং- এমপি ২৩/২০১৯ (কোতয়ালী),তারিখ ৩০/১/২০১৯। এর কিছুদিন পর অর্থাৎ মার্চ মাসের ১৩ তারিখ উক্ত মামলাটির নথি (নালিশী, আদেশ) সরিয়ে দিয়ে একটি নতুন নথি যোগ করেন। যাহার নালিশীতে দঃবিঃ আইনের ৫০০/৫০১/৫০২/১০৯ ধারার পাশাপাশি আরো নতুন কিছু ধারা যেমন- ৩৮৫ /৩৮৬/ ৩৮৭ /৩৭৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন ধারা উল্লখ করা হয়নি। উল্লেখ্য, এই মামলার নাম্বারটাও দেখা যায় এম.পি-২৩/২০১৯ ( কোতয়ালী) এবং, আদেশে দেখা যায় যে, এই মামলাটি দায়ের হয়েছে ৩০/১/২০১৯ ইং তারিখে। যেখানে সংশ্লিষ্ট ধারায় অর্থাৎ, দঃ বিঃ আইনের ৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯/৫০০/৫০১/৫০২ ধারায় অপরাধ আমলে গ্রহন করে এফ.আই.আর এর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ৩০/১/২০১৯ তারিখের দায়েরকৃত নালিশীতে দঃবিঃআইনের ৩৮৫/৩৮৭/৩৭৯ ধারা আদৌ ছিলনা। এমনকি উক্ত ৩০/১/২০১৯ তারিখের ফাইলিং রেজিস্টারেও এই ৩৮৫/৩৮৭/৩৭৯ ধারার কোন অস্তিত্ব নেই।

অর্থাৎ, সম্পুর্ণ বে-আইনী ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড স্বয়ং বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কবির উদ্দিন প্রামানিক করেছেন বলে লিখিত অভিযোগে দাবী করা হয়েছে। যা, উক্ত উভয় নথিপত্র, ফাইলিং রেজিস্টার তলব দিলেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, তার কোর্টে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামলা করলেই কেন তিনি সব এফ.আই.আর দেন সেটা আমলঅযোগ্য অপরাধ হোক কিংবা আমলযোগ্য হোক প্রকৃতপক্ষে, যখন ১ম মামলাটা দায়ের করা হয়েছিল তখন তিনি বে-আইনীভাবে তা সরাসরি এফ.আই.আর এর নির্দেশ দিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ যখন আদেশ পেয়ে দেখলেন এটা তারা এফ.আই.আর হিসেবে নিতে পারেন না ঠিক তখনই তিনি মনস্থির করলেন যে, মামলার নাম্বার ঠিক রেখে সেখানে নতুন নালিশী স্থলাভিষিক্ত করে তিনি এফ.আই.আর এর নির্দেশ প্রদান করবেন যা তিনি মামলা দায়েরের প্রায় দেড় মাস পরে অর্থাৎ বিগত ১৩/৩/২০১৯ তারিখে বাস্তবায়ন করে সরকারি নথিপত্র তিনি নিজেই জাল জালিয়াতি করেছেন। কিন্তু ততক্ষনে ১ম দায়েরকৃত মামলার নালিশীর কপি, ও ফাইলিং রেজিস্ট্রার এর তথ্য বরিশালের বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টাররা সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনার সূত্র ধরে উক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির বিষয়ে বিগত ১৮ ই মার্চ, ২০১৯ তারিখে দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা ও বিভিন্ন পত্রিকার পাশাপাশী অনলাইন নিউজ পোর্টলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে তাদের হয়রানী ও সায়েস্তা করার জন্য তিনি সহ সময়ের বার্তা’র ৪ জন স্টাফের বিরুদ্ধে বিচারক তার কোর্টের নাজির কামরুল হাসানকে বাদী করে ৪ জনকে আসামী করে তাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় অজ্ঞাত করা হয়েছে আরো ৩ থেকে ৪ জানকে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৯ তারিখ রাত ১০টার দিকে সময়ের বার্তা’র পত্রিকা অফিস থেকে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক গাজী আল আমিনকে (এজাহারে নাম নেই) গ্রেফতার করে নিয়ে যায় কোতয়ালী থানা পুলিশ। এসময় থানা পুলিশ তার সকল স্টাফদের নানানভাবে ভয় ভিতি প্রদর্শন করেন।

বর্তমানে পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সহ সকল স্টাফরা অফিসে আসতে ভয় পাচ্ছেন। এতেই প্রতিয়মান হয় বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কবির উদ্দিন প্রামানিক পত্রিকার সম্পাদক সহ তার সকল সহকর্মী এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্যেশ্যে এমন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। ন্যায় বিচার পেতে পারেন এবং বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যাহাতে তাহার জালিয়াতির আলামত ও কোন মামলার কোন তথ্যপ্রমান নষ্ট ও গায়েব না করিতে পারে তাহার প্রতি উপরে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আরও সংবাদ...

Back to top button