ছাত্রদলের সভাপতি’র দৌড়ে গৌরনদীর আরাফাত বিল্লাহ খান

বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে খ্যাত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বর্তমানে নেতৃত্বহীন। পবিত্র ঈদ উল আযহা’র পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে।

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন- বিলুপ্ত কমিটির স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মামুন খান, বৃত্তি ও ছাত্র কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মুক্তিযোদ্ধা গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাগর, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সিনিয়র সহসভাপতি তানভীর রেজা রুবেল, সহসভাপতি আমিনুর রহমান আমিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ইকবাল হোসেন শ্যামল, রিজভী আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহসভাপতি সুরুজ।

জানা গেছে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্ধারনে মেধাবী, চৌকশ, অতীতে রাজপথে অবস্থান, কর্মীবান্ধব ছাত্রনেতার খোঁজে দলটির শীর্ষ নেতারা।

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিকভাবেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির রক্তবহন করে আরাফাত। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত এবং পদায়িত রয়েছে।

তার মেঝ ভাই আশরাফ বিল্লাহ খান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সাধারন সম্পাদক। ছোট ভাই আরিফ বিল্লাহ খান তেজগাঁও কলেজের ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত আছে।

চাচা মিজানুর রহমান খান মুকুল বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য, সেই সাথে তিনি সাবেক ভিপি সরকারি গৌরনদী কলেজ ছিলেন এবং সভাপতি, গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদল। তার আরেক চাচাতো ভাই মনিরুজ্জামান স্বপন বর্তমানে ডেনমার্ক বিএনপির সাধারন সম্পাদক। তিনিও সাবেক ভিপি ও সভাপতি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের।

শিক্ষা জীবন

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। আরাফাত সদ্য সাবেক কমিটির স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য, যুগ্ন সম্পাদক জাসাস, শেখ মুজিব হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন।

রাজনৈতিক কর্মজীবন

জানা যায়, ২০১৩, ১৪-১৫ সালে দেশব্যাপী হরতাল, অবরোধের বিভিন্ন মিছিলে তিনি সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিলেন। এছাড়াও একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে হামলার শিকার হন। বিভিন্ন মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করেন। সেই সাথে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ভিজিটিং লিডারশীপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহন করেন। সেখানে দেশের ইতিহাসে ছাত্রদলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দলের পক্ষে অংশগ্রহন করেন এবং দলের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা ও নির্যাতন সম্পর্কে দলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

এ বিষয়ে আরাফাত বিল্লাহ খান বলেন, ছাত্রদলের মত এত বৃহৎ একটি ছাত্রসংগঠন পরিচালনা করতে হলে শুধুমাত্র আন্দোলন সংগ্রামের অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট নয়, বরং এগুলোর সাথে সাথে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আমি বিগত দিনে সবকটি আন্দোলনে সক্রিয় থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি ও তিনবার কারাবরণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, বিগত জুয়েল–হাবিব পরিষদে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক টিমের সাথে কাজ করেছি। বর্তমান বিলুপ্ত কমিটির একমাত্র সম্পাদক আমি যার বিভাগ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কাজ হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ৫০,৫১ ও ৫২ তম জন্মদিনে স্কুল বিষয়ক প্রকাশনা করে সারা বাংলাদেশে বিতরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আমি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর রাজনৈতিক ফেলো। আমি ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে এ যাবত পর্যন্ত সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহনে ৫০টির অধিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ উদ্দ্যোগে ২১টি নির্বাচনী আসনে ইলেকশন ক্যাম্পেইন ম্যানেজমেন্ট ও পোলিং এজেন্ট ট্রেনিং করিয়েছি। এছাড়া ঢাকার ভেতরে অনেক সামাজিক সমস্যা প্রতিকারে কাজ করেছি যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে তরুণ নেতা হিসেবে তাদের দেশ ভ্রমণ করে এসেছি।

তিনি বলেন, এর বাইরে দীর্ঘদিন আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত রয়েছি। অতীতে যেহেতু আমার সফলতা রয়েছে সেহেতু আগামীতে আমার নানামুখী দক্ষতা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে আরও ছাত্রবান্ধব, জনপ্রিয় ও অপরাপর ছাত্রসংগঠনের তুলনায় অধিকতর গ্রহনযোগ্য করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস। সংগঠন গোছানোর স্বার্থে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সম্মানিত ভোটারবৃন্দ আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করি।

Leave a Reply