আর্কাইভ

শহীদ হয়েছিলেন চার মুক্তিযোদ্ধা | দক্ষিণাঞ্চলের সর্বপ্রথম সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিলো গৌরনদীতে

গৌরনদীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, যুদ্ধাহত জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মুখ যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বুলেট ছিন্টু বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল মুহুর্তে (১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল) ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে পাকসেনারা দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করছে, এ খবর শুনেই গৌরনদীর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মীরা (মুক্তিযোদ্ধারা) পাকসেনাদের প্রতিরোধের জন্য গৌরনদীর কটকস্থল (সাউদেরখালপাড়) নামকস্থানের বটগাছ ও মহাসড়কের পাশ্ববর্তী শোন ক্ষেতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেন। সাউদেরখালপাড় ব্রীজের ওপর পাকসেনাদের গাড়ি বহর ওঠা মাত্রই বাটাজোরের মোক্তার হোসেন হাওলাদার সর্বপ্রথম পাক সেনাদের গাড়িকে লক্ষ করে থ্রী নট থ্রী রাইফেল দিয়ে গুলি ছোড়েন। মুহুর্তের মধ্যে চারিদিক দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদেরকে লক্ষ করে ফায়ার শুরু করেন। পাকসেনারাও পাল্টা গুলি ছোরে। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মীদের সাথে পাকসেনাদের প্রায় আধাঘন্টাব্যাপী সম্মুখ যুদ্ধে আটজন পাকসেনা নিহত ও তাদের একটি গাড়ি সম্পুর্ণ বির্ধ্বস্ত হয়। পাকসেনাদের গুলিতে বৃহত্তর গৌরনদীর নাঠৈ গ্রামের সৈয়দ আবুল হাসেম, বাটাজোরের মোক্তার হোসেন হাওলাদার, চাঁদশীর পরিমল মন্ডল, গৈলার আলাউদ্দিন সরদার ওরফে আলা বক্স শহীদ হন। তিনি আরো জানান, সেইদিনের যুদ্ধে ৮ জন পাকসেনা নিহত হবার পর সেনারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই এলাকার নিরিহ জনগনের ওপর এলোপাথারি গুলি ছুঁড়তে থাকে। পাকসেনাদের গুলিতে সেইদিন ২০ জন নিরিহ গ্রামবাসি নিহত হয়েছিলেন। এছাড়াও সেনারা ওই এলাকার অসংখ্য ঘর বাড়িতে গানপাউডার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। এটাই ছিলো স্থলপথে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বপ্রথম সম্মুখ যুদ্ধ। আর ওই চার বীর মুক্তিযোদ্ধাই হচ্ছে প্রথম শহীদ। গৌরনদীর মুক্তিযোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম চার শহীদের স্মরনে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
আগামি ২৫ এপ্রিল প্রতিরোধ দিবস পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ গ্রামীণ সাংবাদিক সংগঠন বরিশাল বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে গৌরনদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরন সভা ও চার শহীদের মরোনত্তর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস।

Back to top button