বরিশাল

উজিরপুরের হস্তিশুণ্ডে গৃহবধূর অর্ধদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার

বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুণ্ড গ্রামে দুই সন্তানের জননী বাসন্তী শীলকে (২৮) বিষপানে আত্মহত্যার প্রচার করে সৎকার করতে চাইলে অর্ধদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে আনা হয়।

এ ঘটনায় বাসন্তীর বড় ভাই মনোজ বাড়ৈ মঙ্গলবার বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছে বলে জানান উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন।

মনোজ বাড়ৈ অভিযোগ করেন, ছয় বছর আগে তার বোন বাসন্তীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন উজিরপুরের হস্তিশুণ্ড গ্রামের অনিল শীলের ছেলে রতন শীল। তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত তার বোনকে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যার পর নির্যাতন করলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তার বোন। রাত ১০টায় উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পথে বাসন্তীর মৃত্যু হওয়ায় বিষপানে আত্মহত্যার প্রচার করে ওই রাতেই মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করে তার স্বামী। পরে পুলিশ খবর পেয়ে অর্ধদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

মনোজ বাড়ৈ আরও জানান, তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে বলে বাসন্তীর স্বামী রতন শীল, দেবর মানিক শীল, শ্বশুর অনিল চন্দ্র শীল, দেবর গোপাল শীল, দেবর রিপন শীল, শাশুড়ি গৌরি শীল, দেবর শিশির শীল, স্বপন শীল, চাচী অরুনা রানী শীল, প্রতিবেশী নিতাই শীলসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করে উজিরপুর থানায় মামলা করেন।

এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. শাহরিয়ার জানান, হাসপাতালে যখন আনা হয়েছিল তখন বাসন্তী অজ্ঞান ছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করেছিলাম। তবে বিষপানের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

Tags

আরও সংবাদ...

Back to top button