মুক্তচিন্তা

ফ্যাশন শো এবং আমাদের নারীরা

মিডিয়া এবং ব্যবসায়ীরা তরুনী মেয়েদের ফ্যাশন শো নামে অর্ধ নগ্ন করে বর্তমানে নানা অনুষ্ঠান বানাচ্ছে। দিন দিন তরুণ সমাজ ধর্মীয় মূল্যবোধকে ভুলে নগ্নতার দিকে ধাবিত হচেছ। লাক্স-চ্যানেল আই সুপার ষ্টার নামে তেমনি একটি অনুষ্ঠান হয়ে গেল কিছুদিন আগে। এই অনুষ্ঠানে শাড়ি পরা একটি মেয়েকে নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে ফেসবুকসহ মিডিয়ায় শাড়ি ও নারী নিয়ে কথা হচ্ছে।

নারীবাদীদের সুরেই বলি শাড়ি একান্তই মেয়েদের পোশাক। তারা যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই পরতে পারে। কিভাবে পরবে, কিসের নিচে পরবে নাকি উপরে পরবে। সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। স্বীকার করছি এবং মানছিও বিষয়টা। কিন্তু কোন মেয়ে যখন গলায় ওড়না প্যাচায় কিংবা হিজাব পরে রাস্তায় বের হয় সেটাও তো তারই ব্যক্তিগত ব্যাপার তাই না? তখন দেশ, সমাজ রসাতলে যাচ্ছে বলে নারীবাদীরা মুখে খই ফোটায় কেন?

বিষয়টা আর কিছুই নয় নারীকে যখন কেউ অর্ধ্বনগ্ন করে উপস্থাপন করে তখন সেটা কে নারীর স্বাধীনতা হিসেবে ধরা হয়। এখানও তেমনি নারীদেরকে পণ্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষ মাত্রই প্রকৃতিগত ভাবেই সুন্দর। কিন্তু সেই সৌন্দর্য দেখানোর নাম করে নারীকে এখন অসভ্যতার চরম শিখরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর এখানেই নারীবাদীরা নিশ্চুপ। এখানে দেয়া ছবিটা দেখে কোন ভদ্র সমাজের লোক বলবে না যে ছবিটা সুন্দর হয়েছে। ছবিটা হচ্ছে অশ্লীলতার একটা চরম নির্দেশন। অবশ্য অশ্লীলতার সংজ্ঞা বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন রকম হতে পারে। তাই হয়তো পশ্চিমা দুনিয়ায় উলঙ্গ হয়ে মঞ্চে ক্যাটওয়াক করলেও সেটাকে তারা ফ্যাশন হিসেবেই নেয়। ফ্যাশনের উদ্দেশ্যই হলো তথাকথিত সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলা, নারীর দেহ প্রদর্শন করা। কে না জানে যে, নিষিদ্ধ যে কোন কিছু্র প্রতিই কিন্তু মানুষ সব সময় দুর্নিবার আকর্ষণ অনুভব করে।

অনেকেই বলবেন ফ্যাশনও তো একটা পেশা। বেশ্যাবৃত্তিও তো একটা পেশা। সেই জন্য কি বেশ্যাবৃত্তিও সমাজের জন্য হালাল হয়ে যাবে। সমাজটাই এমন হয়েছে যে, দিনদিন মানুষ খারাপের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। তাই হয়তো বলা যায় হাতে রিমোট থাকলেই যে সবাই পিস টিভি দেখবে এটা ভাবাটা বোকামী। তাই যদি হতো এতো আলোচনা-সমালোচনার পরেও বেশির ভাগ নারীরা (কিছু কিছু পুরুষও আছে) হিন্দি সিরিয়াল দেখতো না। যা থেকে মূলত শেখার কিছুই নেই। যারা নারীদের আরও আধুনিক হতে বলে (উগ্রতা অর্থেই বলছি) এবং যারা এই ছবিটার পক্ষে কথা বলছেন তাদেরকে বলছি পুরুষের মতো করে নারীরাও কি শুধু স্যান্ডো গেঞ্জি (মাঝে মধ্যে পুরুষরা যেভাবে খালি গায়ে থাকে) রাস্তায় বের হতে পারবে? নারী আর পুরুষের মধ্যে কিছু গঠনগত পার্থক্য আছে বলেই আমরা পুরুষ ও নারীকে চিনতে পারি। গোপন জিনিস গোপনেই থাকা উচিৎ। সেটা পুরুষের হোক আর মেয়েরই হোক। তা না হলে মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্যটা থাকলো কোথায়?

অনেকেই বলবেন মুক্ত বিশ্বের এই যুগে যেখানে ঘরে ঘরে ডিশ, হাতের নাগালেই ইন্টারনেট বিশাল দুনিয়া সেখানে লাক্স- চ্যানেল আইর এই অনুষ্ঠানটি খুব বেশি কিছু নয়। বাঙ্গালীর মূ্ল্যবোধের সাথে যেটা যায় না সেটা না করলেই কি নয়? তথাকথিত অতি আধুনিক! কিছু মানুষ যারা নিজেদের সমাজ-সভ্যতা ও স্বকীয়তাকে বিসর্জন দিয়ে পাশ্চাত্যকে অনুকরণ করে ভাবে আমরা সভ্য হয়ে গেলাম তাদের কে বলবো এই ছবিটার দিকে ভাল করে তাকাতে। হয়তো বলবেন যুগে যুগে পোশাকে বির্বতন ঘটে। আগে যেভাবে মানুষ পোশাক পড়তো এখন তো সেভাবে কেউ পড়ে না। পোশাকের বিবর্তন আর নগ্নতা কিন্তু এক জিনিস নয়। কালের পরিবর্তনে পোশাকের পরিবর্তন ঘটছে সেটাও কিছু উর্বর মস্তিষ্কের মানুষের কারণেই। আমি বলবো এই রকম অসভ্য, বেহায়া পোশাকের চেয়ে বোরকা অনেক উত্তম।

এই বিভাগে প্রকাশিত মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে।

মোকসেদুল ইসলাম's picture

মোকসেদুল ইসলাম

সৌজন্যে: প্রিয়.কম


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...