বরিশাল

ঘুম নেই বরিশালের কামারদের

ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন বাজারের দা, চাকু, কুড়ালসহ লোহার যন্ত্র তৈরির কারিগররা। দিনশেষে রাতেও বিরাম নেই এই কারিগরদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই নিজেদের তৈরি যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হয়। তবে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ীও রয়েছে। যারা শুধু ঈদের সময়ই এই ব্যবসা করে থাকেন।

অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদুল আযহার সময় কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় কামার পট্টিতে। কারণ ঈদুল আযহার সময় পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রচুর পরিমাণে দা, চাকু, বটি আর চাপাতির যোগান দিতে হয় এই কর্মকারদের।

প্রায় ২৫ বছর ধরে এই লোহার যন্ত্রপাতি তৈরি করছেন সুবল কর্মকার। পূর্বপুরুষের পেশা হিসেবে তিনিও যুক্ত হন এই পেশায়। তিনি বলেন, প্রতিদিন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় হয়। তবে আমাদের মূল টার্গেট থাকে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। বেচাকেনা এখনো শুরু না হলেও প্রচুর পরিমাণে অর্ডার আসা শুরু হয়েছে। তাইতো কর্মব্যস্ততাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রবীণ এই কর্মকার। গত বছর ঈদে বেচাকেনা ভাল করলেও এবার কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানান তিনি। এর কারণ হিসেবে অন্য কারিগররা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, বৃষ্টিই একমাত্র কারণ হতে পারে এই অনিশ্চয়তার। আর হরতালের কারণে তো ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছেই।

কোরবানিকে কেন্দ্র করে বেশি অর্ডার আসছে চাপাতি, দা, বটি, ছুরি, কুড়ালসহ পশু কোরবানি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির,’ বললেন কর্মকার চন্দন। তিনি বলেন, কাজের চাপ বেশি থাকলেও বিদ্যুতের সমস্যার কারণে ক্ষতি হচ্ছে। কাজ এগোচ্ছে না। একদিন বিদ্যুৎ না থাকলে লোকসান গুনতে হয়। এছাড়া যন্ত্র তৈরির জ্বালানি কয়লার দামও বাড়তি। একবস্তা কয়লার দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা। যা একদিনেই শেষ হয়ে যায়। কামার পট্টির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোহার এসব যন্ত্রপাতির কাঁচামাল কিনতে হয় বরিশাল নগরীর হাটখোলা থেকে। যার মূল্য পড়ে কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা করে। আর এক কেজি লোহা থেকে তেরি একটি দা বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

কারিগরদের অভিযোগ, কারিগর সিরাজ শিকদার বলেন, এই পেশায় পরিশ্রমের চেয়ে বেতন কম। সারাদিন আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। দিন-রাত সারাক্ষণ আগুনের পাশেই কাটাতে হয়। এই পেশা ছাড়ছেন না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাপ-দাদার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছি। অন্য কাজ শিখিনি। তাই এই পেশা ছাড়ার উপায় নেই। ঈদের প্রায় অনেকদিন বাকি তাই ক্রেতাদের আনাগোনা এখনো শুরু হয়নি। তবে দা, কুড়াল, চাকুর অর্ডার দিতে আসছেন অনেকেই।

মোসলেম হাওলাদার নবগ্রাম রোড এলাকা থেকে এসেছেন চাকু তৈরির অর্ডার দিতে। চাকু তৈরির কাঁচামাল অর্থাৎ লোহা নিয়ে এসেছেন তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি চাকু তৈরিতে কারিগররা ৭০০ টাকা মজুরি চাচ্ছে। সামনে ঈদ তাই এরা এত বেশি মজুরি হাকাচ্ছে।

বরিশাল নগরীর হাটখোলা চাড়াও সাগরদী বাজার, নতুন বাজার, কাশিপুর বাজার, চৌমাথা বাজর, বাংলা বাজার, কালিজিরা বাজারসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার বাজার গুলোতে কামার পট্টি রয়েছে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...