চট্টগ্রামের নতুন নগরপিতা মনজুর আলম মনজু
বিশ্লেষক, রাজনৈতিক বোদ্ধাদের সকল হিসেব-নিকেশ পাল্টে দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মনজুর আলম। বহুল আলোচিত এ নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ৯৫ হাজার ৫'শ ২৮ ভোটে হারিয়ে প্রথম বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রিটার্নিং অফিসার জেসমিন টুলি এ ঘোষণা দেন। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার সাড়ে ১৮ ঘন্টা পর এ ফলাফল ঘোষণা করা হলো। নির্বাচনে মোহাম্মদ মনজুর আলম পেয়েছেন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ১'শ ৪৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহিউদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬'শ ১৭ ভোট। এ পদে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রফিকুল আলমসহ আরো ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৪৯ ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৫৯ জন প্রার্থী। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, চট্টলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল। এ ফলাফলের মধ্য দিয়ে তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হলো। তিনি বলেন, চট্টলাবাসী প্রত্যাশা করে নতুন মেয়র সিটি করপোরেশনকে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবেন।
বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ। কঠোর নিরাপত্তায় সকাল ৮টায় এ ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকালের দিকে কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও দুপুরে দিকে তা বাড়তে থাকে। দুপুরের পর কেন্দ্রগুলো ছিল উৎসবমুখর। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার এসময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন কেন্দ্রগুলোতে। নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক নারী ভোট দিয়েছেন।
মহানগরীর ৬শ’ ৭৩ কেন্দ্রে ৪ হাজার ৭শ’ ৪৮টি বুথে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন ৬শ’ ৭৩ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৭শ’ ৫৩ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৫শ’ ৯৬ জন পোলিং অফিসার। নতুন ৫ লাখসহ এবারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬শ’ ৭৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৭৩ হাজার ১শ’ ৬৫ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ১৫ হাজার ৫শ’ ১১ জন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট পড়েছে ৫৪ দশমিক পাঁচ শূন্য শতাংশ। এ নির্বাচনে ব্যতিক্রম ছিল ইলেক্ট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি। প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এ পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন মহানগরীর জামালখান রোড এলাকার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা। ইলেক্ট্রিক বোর্ডে লাগানো প্রতীকের পাশের বোতাম টিপে নিজেদের পছন্দের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভোট দেন তারা। কার্যকর ও নির্ভুল প্রমাণিত হলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। শুক্রবার পর্যন্ত সেনাবাহিনী এবং সদস্যরা মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মহানগরীর ৬ থানায় দু’জন করে ১২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এবং ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি ম্যাজিষ্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ৪১ জন কর্মকর্তাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া নগরীর এম এ আজিজ ষ্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কমিশন কর্মকর্তারা।
ছবি: প্রথম আলো