আগৈলঝাড়ায় মুরগীর বাচ্চার মূল্যবৃদ্ধির কারণে পোল্ট্রি শিল্পে বিপর্যয়
সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সম্ভাবনাময় পোল্ট্রি শিল্পে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মুরগীর বাচ্চার অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একে একে ফার্মগুলো, ফলে বেকার হয়ে পরেছে মালিক সহ হাজার হাজার শ্রমিক। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা ফার্ম মালিকরা ব্যাংক, এনজিও ও স্থানীয় মহাজনের ঋণসহ প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। উপজেলা পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০টি লেয়ার ফার্মে ২০ হাজার মুরগী এবং ২০০টি ব্রয়লার ফার্মে ৭০-৮০ হাজার মুরগী রয়েছে। আগে প্রতিমাসে এঅঞ্চলে লক্ষাধিক একদিনের বাচ্চার চাহিদা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে চাহিদা অনেকাংশে কমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বর্তমানে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে পোল্ট্রি ব্যবসায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পোলট্রি খামারীরা জানান, বর্তমানে প্রতিটি বাচ্চা কিনতে হয় ৭০ টাকা। প্রতিটি মুরগী উৎপাদনে তাদের ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ
পরলেও উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগী বর্তমানে খুচরা প্রতি কেজি ১২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি একশ’ ডিম বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। সিডর ও আইলার পর বার্ডফ্লু আতঙ্কে মুরগী বিক্রির বাকি বাজার নষ্ট হয়ে গেলেও তা পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই বর্তমানে একদিনের বাচ্চার দাম বৃদ্ধি হওয়ায় আগৈলঝাড়ায় পোল্ট্রি ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানায়। পোলট্রি খামারীরা কোটি কোটি টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করে খামার গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এ ব্যবসায় লোকসান গুণতে গুণতে অনেকে দেনার দায়ে দিশেহারা হয়ে পরেছেন। ব্যাংক, এনজিও এবং স্থানীয়ভাবে ঋণ নিয়ে এলাকার বেকার যুবকরা আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলে লাভের আশায় ব্যবসা শুরু করলেও অব্যাহত লোকসানে তারা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। পুরুষের পাশাপাশি পারিবারিক ফার্মে গৃহিনীরাও একসময় সাচ্ছন্দে কাজ করতেন। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যবসায় বিপর্যয়ের কারণে অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। তাদের কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, কেউ কেউ অন্য ব্যবসায় জড়িয়ে পরেছে। আবার অনেকে দেনার দায়ে আত্মগোপনে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপজেলা পশুসম্পদ অফিস ও কর্মকর্তা থাকলেও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় নতুন করে আর কোন পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে উঠছেনা। অথচ সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিলে বেকার যুবক যুবতীরা ব্যবসায় স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মাংস ও ডিমের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করা সম্ভব হত।
> খোকন আহম্মেদ হীরা