ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আড়াই কোটি টাকা – গৌরনদী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫ দোকান ভস্মিভূত ॥ আহত-৩০

নিজস্ব সংবাদদাতা, গৌরনদী, ২৪ জুন ॥ বরিশালের গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডের সুপার মার্কেটে বুধবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৩ টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ২ টি ভাড়াটিয়া বাসা ভস্মিভূত হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মী, শিশুসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। অগ্নিকান্ডে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকান্ডের সময় বিদ্যুৎ কর্মীদের গাফিলতির কারনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুব্দ ব্যবসায়ীরা পল্লী বিদ্যুতের এক প্রকৌশলী ও লাইনম্যানের ওপর হামলা চালিয়ে জখম করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত দুইটার দিকে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডের নিউ সুপার মার্কেটের জাহিদ কনফেকশনারী থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পাশ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশালের ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ভোর সাড়ে ৫ টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন।
ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সুপার মার্কেটের জাহিদ কনফেকশনারী, বাবুল ক্লথ ষ্টোর এন্ড টেইলার্স, মের্সাস খান ট্রেডার্স, সরদার ইলেকট্রনিক্স, হাসান ইলেকট্রনিক্স, খলিল ইলেকট্রিকাল ষ্টোর, মনির ইলেকট্রনিক্স, মহিউদ্দিন গার্মেন্টস, নুরু গার্মেন্টস, নিজাম ষ্টোর, বিপ্লব ইলেকট্রনিক্স, সরদার টেলিকম, সাইয়েম ইলেকট্রনিক্স, গৌরনদী ক্যাবল সাব সেন্টার, সাজ বিউটি পারলার, সুমন গামেন্টস, অটো টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়, বিলকিস জাহান ও মনিরুজ্জামানের ভাড়াটিয়া বাসা সম্পূর্ণ ভস্মিভুত এবং সোহেল ট্রেডার্স, সায়েম ইলেকট্রনিক্স, ক্যাবল নেটওর্য়াক, হাবিব ষ্টোরসহ সাতটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান আংশিক ভস্মিভূত হয়। অগ্নিকান্ডে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আগুন নেভাতে গিয়ে
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের রিডার বজলুর রহমান, কর্মী সুজিত কৃত্তনীয়া, স্থানীয় সান্টু ভুইয়া, রুবেল হাওলাদার, রনি সিকদার, মানিক শেখ, শামিম সরদার, মনিরুজ্জামান সরদার, এটোম, খলিলুর রহমান, শাহিন সরদার, জাহিদ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মনোয়ার হাওলাদার, সোহেল খান, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, মেরাজ খান, কালাম সরদার, আবুল সিকদার, সোহাগ ফকির, রোমিও, মনীষ বিশ্বাসসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এছাড়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের মধ্য দিয়ে ভাড়াটিয়া বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আহত হয় চয়ন, আরাফত, বাদল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভস্মিভুত মালামাল অপসারন করতে গিয়ে সর্প দংশনে আহত হয়েছে কাঠমিস্ত্রি শওকত হোসেন। আহতদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। অগ্নিকান্ডের সময় প্রায় ৩ ঘন্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে রাস্তার দু’পার্শ্বে শত শত নৈশ কোচসহ যানবাহন আটকা পরে।
গৌরনদী নিউ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম সরদার অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন গাফিলতি করায় মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। ফলে ক্ষতির পরিমান আরো বেরে যায়। তিনি আরো অভিযোগ করেন, একাধিকবার স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিদ্যুৎ বিছিন্ন করার অনুরোধ করা সত্বেও তারা সংযোগ বিছিন্ন না করে ব্যবসায়ীদের সাথে দুরব্যবহার করে।
আহত ফায়ারম্যান সুজিত কৃত্তনিয়া অভিযোগ করেন, বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্ন করনে বিলম্ব ও পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মহাসড়কের ওপর দিয়ে যাত্রীবাহি বাস “মীর পলাশ” অতিক্রমকালে ফায়ার সার্ভিসের দুটি পাইপ ফেঁটে যায়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রন কাজে বিঘ ঘটে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টায় পল্লী বিদ্যুৎ গৌরনদী জোনাল অফিসের জুনিয়র প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ও লাইনম্যান মাহফুজুর রহমান অগ্নিকান্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে আসেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুব্দ ব্যবসায়ীরা অগ্নিকান্ডের সময় বিদ্যুৎ লাইন বিছিন্ন করতে বিলম্ব করার অভিযোগে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হামলার প্রতিবাদে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রায় ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে। দুপুর বারোটায় উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী ও পৌর মেয়র নুরে আলম হাওলাদারসহ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও পল্লী বিদ্যুত গৌরনদী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবু বক্কর শিবলীর সাথে সমঝোতা বৈঠক করেন। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ লাইন চালু করা হয়।
তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে ঘটনার পর পরই গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ছুটে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ আলম খান, ভাইসচেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, পৌর মেয়র নুরে আলম হাওলাদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ হারিছুর রহমান হারিছ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সহযোগীতার আশ্বাস দেন।