সরকার দলীয় এমপি ইলিয়াস মোল্লার বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা
ঢাকা অফিস : রাজধানীর মিরপুরে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৮/৮ জুলাই। ধারা ৩৩২/৩৫৩। পুলিশ সার্জেন্টকে মারধর ও সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ায় অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সার্জেন্ট শরিফুলের বাড়ি গোপালগঞ্জ বলে জানা যায়।
জানা গেছে, গত ৩০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইলিয়াস মোল্লা আশুলিয়া যাচ্ছিলেন। এ সময় আশুলিয়া ব্রিজের কাছে ট্রাফিক জ্যাম থাকায় তিনি পুলিশ সার্জেন্ট শরিফুল ইসলামের কাছে এর কারন জানতে চান। সার্জেন্ট শরিফুল তখন এর সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং তার বাড়ি গোপালগঞ্জ বলে তিনি সংসদ সদস্যকে উল্টো ধমক দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইলিয়াস মোল্লা সার্জেন্টের কলার ধরে মুখে চড় মারেন এবং তার নেম ট্যাগ ছিঁড়ে ফেলেন। ঘটনার পর পরই শরিফুল ইসলাম পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
মামলার বাদি সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম এড়ঁৎহধফর.পড়স কে বলেন, গত ৩০ জুন আশুলিয়া ব্রিজে আমি দায়িত্ব পালন করছিলাম। ব্রিজের ৩টি জায়গা নষ্ট হওয়ায় বেড়ি বাঁধ পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে রোডস এন্ড হাইওয়ের লোকজন এসে তা মেরামত করে। যানজট কমে গেলে সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে চড় মারেন এবং তার ইউনিফর্মের নেম ট্যাগ ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আইজিপি নূর মোহাম্মদ তাকে ডেকে মামলা দায়েরর পরামর্শ দেন । আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করা হবে কি-না তা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, কয়েকমাস আগে সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করার সময় হাবিলদার এমদাদুল হক তাকে বাঁধা দেন। এতে শরিফুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে লাঠি দিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেন। পরবর্তীতে উভয়কেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও শরিফুল ইসলামকে পুনরায় সাভারে দায়িত্ব দেয়া হয়। হাবিলদার এমদাদুল হক বর্তমানে ঢাকা কোর্টে কর্তব্যরত রয়েছেন।