জাকির নায়েক…ইসলামের শত্রু না মিত্র? – ওয়াচডগ
জাকির নায়েককে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা অনেকে অপ্রয়োজনীয় ও ফালতু বলে উড়িয়ে দিতে চাইছেন। দ্বিমত করতে চাই এর সাথে। আমি মনে করি এ সবের প্রয়োজন আছে। ১৫ কোটি দেশের মানুষ আমরা। মানব সম্পদ রপ্তানী আমাদের আদি ব্যবসা। পশ্চিমা দুনিয়ার সাথে দিন দিন আমাদের দুরত্ব বাড়ছে এবং একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আদম সংক্রান্ত আমাদের জাত ব্যবসার দুয়ার। আমাদের জানা থাকা উচিৎ কাদের হাত আছে এর পেছনে। আমার যদি ভুল না হয় জাকির নায়েকের জন্ম ভারতে। ১০০ কোটি মানুষের দেশে কোটি কোটি মুসলমানের বাস। এই সেই ভারত যেখানে নরেন্দ্র মোদিদের রাজত্ব। এই সেই ভারত যেখানে মুসলমানদের কচু কাটা করা হয় রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে। এই সেই ভারত যেখানে বাঁচতে হলে জাত ধর্ম নির্বিশেষে মানুষকে লড়াই করতে হয় ক্ষুধা আর দরিদ্রের বিরুদ্ধে। ধর্মের মূল বানী যদি মানবতার সেবা হয়ে থাকে জাকির নায়েক নিজ দেশ ভারতে তা কতটুকু পালন করে যাচ্ছেন তার কি কোন ভিডিও প্রমান আছে? ধর্মের শুরু তো ঘর হতে হওয়ার কথা, তারপর প্রতিবেশি, শহর, নগর, বন্দর, দেশ ও মহাদেশ। ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে ঘাস খাওয়ার মত তিনি সেবা করছেন ইউরোপ আর আমেরিকার জনগণকে। পশ্চিমা দুনিয়ার যৌনাচার, ড্রাগাসক্তি সহ সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলামিক সমাধান দিয়ে বাহবা কুড়চ্ছেন। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে আধুনিক প্রযুক্তি সূযোগ নিয়ে সন্দেহ আর অবিশ্বাসের বিষ ছড়াচ্ছেন মুসলমানদের ভেতর। জন্মস্থান মুম্বাইয়ের দরিদ্র একজন মুসলমানকে হেদায়েত করলে নিশ্চয় সে বুকে বোমা নিয়ে মাদ্রিদ পাতাল রেল উড়াতে যাবে না, কারণ তার সে সামর্থ্য নেই। কাজটা সহজ হয় লন্ডনে বাসরত একজন মুসলমানকে টার্গেট করলে। মুখে যতই শান্তির ললিত বানী ফুটুক না কেন, আসল উদ্দেশ্য কি তা বুঝতে ইসলামী পণ্ডিত হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না। এই সেই জাকির নায়েক যিনি মহরম ট্রাজেডির খলনায়ক ইয়াজিদ নামের শেষে ’রাদিয়াল্লাহ তা লা আনহু’ উচ্চারণ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।
পশ্চিমা দুনিয়া ধর্ম পালনের স্বর্গভূমি হিসাবেই খ্যাত ছিল। কিন্তু তা বদলে যাচ্ছে, এবং নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবীর এ অংশে ইসলাম ধর্ম নিষিদ্ধ হলেও বোধহয় অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এর জন্যে জাকির নায়েক আর তার বাই প্রডাক্ট ওসমা বিন লাদেনের দলকে দায়ী করতে হবে প্রথমে। ইউরোপ আমেরিকার পাপাচার, অনাচার, অবিচার আর জৈব বিকৃতি শোধরানোর জন্যে আমাদের মত হাভাতের দলকে দেশ গুলোতে বাস করার আমন্ত্রন জানান হয় না। পেট আর চেটের টানে যারা পাপাচারের পূন্যভূমিতে হিজরত করেন তাদের নিশ্চয় জানা থাকার কথা কোথা ও কেন যাচ্ছেন। চাহিদার তাগিদে দেশ গুলোতে পা দিয়েই আমরা শুরু করি ঘৃণা ছড়ানোর পবিত্র কাজ। আর এ ধরনের কাজে স্ফুলিঙ্গ হিসাবে কাজ করেন জাকির নায়েকের মত বিজ্ঞ পন্ডিতের দল।
বেনি হেন’এর নাম হয়ত শুনে থাকবেন। ইভানজেলিষ্ট, এবং জাকির নায়েকের মতই বিজ্ঞ জন। হাতের ছোয়ায় মরা মানুষ জীবন্ত করার দাবি করেন। তদন্ত করে দেখা গেছে ধর্মের নামে চাঁদাবাজি করে বিশাল এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। ধর্ম অন্তরের ব্যাপার, ঘরের ব্যাপার। কিন্তু জাকির নায়েকের মত পণ্ডিতদের দল নিজেদের পান্ডিত্য দিয়ে একে দেশে দেশে, জাতিতে জাতিতে অবিশ্বাস আর সন্দেহের বীজ হিসাবে ব্যবহার করে চলছেন।
Source : WatchDog.Amarblog.com