পুলিশ দেখে পালাতে গিয়ে….
কথায় আছে চোরের মনে পুলিশ পুলিশ। সেই কথাই অবশেষে বাস্তবে রূপ মিলেছে গতকাল শুক্রবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ইল্লা গ্রামে। পুলিশ দেখে দৌড়ে পালাতে গিয়ে নারী পাচারকারী চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার হলেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় মূলহোতা জাকির হাওলাদার ওরফে সাগর।
গৌরনদী থানার এস.আই মোঃ শাহজালাল জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে এগারোটার দিকে পিএসআই আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে একটি মামলার তদন্তের জন্য মোটরসাইকেলযোগে উপজেলার বাগিসেরপাড় গ্রামে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে ইল্লা গ্রামের তৈয়ব আলীর বাড়ির ওপর দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় তৈয়ব আলীর নতুন জামাতা জাকির হাওলাদার ওরফে সাগর (৩৫) ও তার সহযোগী কতিথ চাচা সিরাজ শরীফ (৫৫) দৌড়ে পালানোর চেষ্ঠা করে। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে সিরাজ শরীফকে আটক করলেও সাগর পালিয়ে যায়। আটককৃত সিরাজ শরীফ জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন প্রতারনার মাধ্যমে বিয়ের নামে নারী পাচার করে আসছে। দু’মাস পূর্বে ইল্লা গ্রামরে দিনমজুর তৈয়ব আলীর কন্যা শিউলী আক্তারের (১৮) সাথে মোবাইল ফোনে সাগরের পরিচয় হয়। এর সূত্রধরে সাগরের কতিথ চাচা ও নিকটতম আত্মীয় পরিচয়ে ৫ জনে গত ৩০ জুন শিউলীদের বাড়িতে আসে। সেখানে কৌশলে শিউলীর অভিভাবকদের রাজি করিয়ে ওইদিনই (৩০ জুন) শিউলী ও সাগরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর অন্যান্যরা চলে গেলেও সাগর ও তিনি শিউলীদের বাড়িতে অবস্থান করে।
সিরাজ আরো জানান, প্রতারনার মাধ্যমে সাগর এ পর্যন্ত ৮টি ও তিনি ৩টি বিয়ে করেছেন। বিয়ের কয়েকদিন পর কৌশলে তাদের স্ত্রীদের পতিতাপল্লীসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করে দেয়া হয়। আটককৃত সিরাজ শরীফের বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী থানার গোপখালী গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়া শরীফের পুত্র। পালিয়ে যাওয়া জাকির হাওলাদার ওরফে সাগরের বাড়িও একই গ্রামে তার পিতা আব্দুল লতিফ হাওলাদার। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৭নং আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সাগরের বিরুদ্ধে প্রতারনার মাধ্যমে বিয়ে করে স্ত্রীদের পাচার করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শিউলীর মা হালিমোন বেগম বাদি হয়ে দুই জনের নামসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।