গৌরনদীতে দুগ্ধজাত শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অফিসারসহ দু’জনের ওপর হামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, গৌরনদী॥ আদালতের আদেশে দুগ্ধজাত শিশুক উদ্ধার করতে গিয়ে বরিশালের গৌরনদী থানার এক পুলিশ অফিসারসহ এক কনষ্টবলের ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে অভিযুক্তরা। দুই ঘন্টাপর খবর পেয়ে থানার একদল পুলিশ অবরুদ্ধদের উদ্ধারসহ হামলাকারী ২ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার বিকেলে পৌর এলাকার উত্তর পালরদী গ্রামে।
গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ওই গ্রামের বেল্লাল হোসেন বেপারীর সাথে তার স্ত্রী রিনা আক্তারের দীর্ঘদিন থেকে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিলো। সম্প্রতি বেল্লাল তার এক বছর তিনমাসের দুগ্ধজাত পুত্র সন্তান রেদওয়ানকে রেখে রিনাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় গত রবিবার (১১ জুলাই) বরিশাল সদর আদালতে রিনা আক্তার তার দুগ্ধজাত শিশুকে পাওয়ার জন্য
একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক দুগ্ধজাত শিশুটিকে উদ্ধার পূর্বক রিনা আক্তারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। তিনি আরো জানান, আদালতের নির্দেশ পালনের জন্য গতকাল সোমবার থানার এস.আই শাহজালালকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এসআই শাহজালাল জানান, গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে সঙ্গীয় ফোর্স কনষ্টবল কামাল হোসেনকে নিয়ে দুগ্ধজাত শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য উত্তর পালরদীস্থ বেল্লাল হোসেনের বাড়িতে যান। এসময় শিশুটিকে সনাক্ত করে থানায় নিয়ে আসার সময় বেল্লাল, তার ভাই জামাল হোসেন ও তাদের সহযোগীরা ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে শিশু রেদওয়ানকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। হামলায় কনষ্টবল কামাল হোসেন আহত হন। দুই ঘন্টাপর খবর পেয়ে থানা এস.আই মিজানুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরসহ শিশুটিকে উদ্ধার করে। এসময় হামলাকারী জামাল হোসেন ও মুকুল মিয়াকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এস.আই শাহজালাল বাদি হয়ে সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় ওইদিন বিকেলে মামলা দায়ের করেছেন।