বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা আজিজ জীবন যুদ্ধে পরাজিত
হাওলাদার নিজেই জীবন যুদ্ধে পরাজিত। গত বছরের ৭ মে ষ্টক করে তার ডানপাশ অবশ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিনাচিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা আজিজ হাওলাদার রয়েছেন শষ্যাশয়ী। তার চিকিৎসকরা বলেছেন দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসা করানো হলে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব কিন্তু অসহায় পরিবারটির পক্ষে বর্তমানে যেখানে ঔষধ ক্রয়ের সমার্থ নেই সেখানে উন্নত চিকিৎসার কথা ভাবাই দুঃসহ। তাই অসহায় পরিবারটি মুক্তিযাদ্ধা আজিজ হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের মহানুভব ব্যক্তি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে হাত পেতেছেন।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী উজিরপুরের কালিহাতা গ্রামের মৃত আব্দুস ছোবাহান হাওদারের পুত্র আজিজ হাওলাদার। ১৯৭০ সালে এস.এসসি পাশ করে ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেল্স (ই.পি.আর)’র ল্যান্স নায়েক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ১৯ বছর। ঢাকার পিলখানায় কর্মরত অবস্থায় দেশে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি দেশে চলে আসেন। দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধের ৯ নং সেক্টরের গ্র“প কমান্ডার উজিরপুরের বামরাইল গ্রামের ওয়াদুদ সরদারের নেতৃত্বে সৈনিক আজিজ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সৈনিক আজিজ পাক সেনাদের সাথে একাধিকবার সম্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের ভূমিকা রাখেন। দেশ স্বাধীনের পর পূণরায় তিনি বাংলাদেশ রাইফেলস্ (বিডিআর)’র নায়েক সুবেদার হিসেবে যোগদান করেন। গত ৮ বছর পূর্বে অবসরে আসেন মুক্তিযোদ্ধা আজিজ হাওলাদার।
আবেগআপ্লুত হয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বাংলার গর্বিত সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ হাওলাদার (৫৮) বলেন, “মুই আমনেগো লাহ্যান হাইট্টা চইল্লা বাঁচতে চাই, মোরে ডাক্তার দ্যাহাইয়া ভাল করার লাই¹া মোর পোলাপানে জায়গা জমি য্যা আছিলো সব বেইচ্ছা ডাক্তার দ্যাহাইছে। এ্যাহন ওষুধ খাওয়ারও টাহা নাই। আল্লায় এ্যার চাইয়া ক্যান মোরে লইয়া যায় না”।
সূত্রমতে, স্ত্রী, ৩ পুত্র ও ১ কন্যার পড়াশুনার কথা চিন্তা করে তারা স্ব-পরিবারে বসবাস শুরু করেন পাশ্ববর্তী বাবুগঞ্জের আগরপুর গ্রামে। তার বড়পুত্র সাদ্দাম হোসেন বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীতে, মেঝপুত্র সাদেক হোসেন ১০ম ও ছোট পুত্র সাজ্জাত ৮ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। স্ব-পরিবারে কোন একমতে খেয়ে না খেয়ে ভালই ছিলো মুক্তিযোদ্ধা আজিজের পরিবার। হঠাৎ করে অসুস্থ্য হওয়ার পর বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্ত্র খুঁইয়ে আজ নিঃস্ব হয়ে পরেছেন তিনি। বীর মুক্তিযাদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক আজিজ হাওলাদারের অসহায় পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের মহানুভব সমাজপতি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে হাত পেতেছেন।