“মোহে গামছা দিয়া তলপ্যাডে লাঠি
মারার পর মোর কোন হুশ আছিলোনা”
‘মোহে (মুখে) গামছা দিয়া কিল-ঘুষি ও তলপ্যাডে লাঠি মারার পর মোর আর কোন হুশ আছিলোনা। মুই বার বার হ্যাগো (নির্যাতনকারীদের) হাতে-পায় জড়াইয়া ধরছি, হ্যাতেও হ্যাগো মোন গলেনি” ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্বরে কথাগুলো বলছিলো বর্বরতার স্বীকার কিশোর দিনমজুর সোহাগ মোল্লা ওরফে ওমর আলী (১৪)। একটানা ২৭ ঘন্টা পর গতকাল বুধবার বিকেল তিনটায় জ্ঞান ফিরে আসে দিনমজুর ওমর আলীর। জ্ঞান ফেরার পর হাসপাতালের বেডে শষ্যাশয়ী ওমর আলী উল্লেখিত কথাগুলো সাংবাদিকদের জানায়।বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বড়দুলালী গ্রামের ইসমাইল মোল্লার পুত্র নির্যাতিত দিনমজুর ওমর আলী আরো জানায়, কাজে না যাওয়ার অপরাধে গত মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে একই গ্রামের মজিদ খন্দকারের পুত্র স্বজল খন্দকার ও তার ভাগ্নে দিদার উদ্দিন সিকদার তাকে কথা শুনার জন্য দিদারদের বাড়ি ডেকে নিয়ে যায়। কাজে না যাওয়ার অপরাধে সেখানে বসে তার মুখে গামছা বেঁধে এলোপাথারী কিল, ঘুষি ও লাঠি মারতে থাকে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ওমর জ্ঞানশূণ্য হয়ে পরে।
গৌরনদী থানার এস.আই মিজানুল ইসলাম জানান, নির্যাতনের ঘটনায় কিশোরের পিতা ইসমাইল মোল্লা বাদি হয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে গৌরনদী থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরো জানান, নির্যাতনকারীরা মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ওমর আলীকে ঘরের মধ্যে থাকা একটি ষ্টীলের বাক্সে প্রায় আধাঘন্টা তালাবদ্ধ করে রাখে। ভাগ্যক্রমে ওমর আলী প্রানে বেঁচে যায়। পুলিশ ষ্টীলের বাক্সটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য জোর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে বলেও এস.আই উল্লেখ করেন।