গৌরনদীতে শিশু শ্রমিকের কদর বেশী ২৪ ঘন্টা খাটালেও দেখার কেউ নেই
কাজের নেই কোন নির্দিষ্ট সময়। সকাল থেকে একটানা রাত ১১ টা থেকে ১২ পর্যন্ত এই শিশুদের কাজে নিয়োজিত রাখতে বাধ্য করছে মালিকরা। কোন কাজে একটু ভুল-ত্রুটি হলেই শুরু হয় অত্যাচার। গরম পানি ঢেলে দেয়া, রড দিয়ে শরীরের আঘাত করা, সারাদিন না খাইয়ে রাখাসহ অসংখ্য অমানবিক অত্যাচার চলে এই শিশুদের ওপর। যে বয়সে তাদের স্কুল ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে হেসে খেলে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে এই শিশুরা বড়দের ইট ভাঙ্গার কাজ করছে। যে কাজে প্রতিনিয়ত ঘটতে পারে যে কোন দুর্ঘটনা। তারা জানে যে কোন সময় ইট পড়ে কিংবা হাতুড়ি দিয়ে হাত-পা থেতলে যেতে পারে। তবু শুধু দু’মুঠো ভাতের যোগান করতেই এই অসহায়
শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে প্রতিনিয়ত নিয়োজিত হচ্ছে। এছাড়া হরেক রকম ফেরিওয়ালা হয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য শিশু। আর মেয়ে শিশুরা বাসাবাড়িতে গৃহস্থালী কাজ করে। প্রতিনিয়ত চলে তাদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন। প্রতিবাদ করার কোন উপায় নেই। বাড়িতে ফিরে বাবা মায়ের সংসারে না খেয়ে মরার চেয়ে শত নির্যাতন সত্ত্বেও এই শিশুরা বাসা বাড়িতে কাজ করে চলেছে দিনের পর দিন। শিশু শ্রম আইনের কোন প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এর সংখ্যা। কিছু সংখ্যক সুবিধাভোগী বাড়িওয়ালা, মহাজন, দোকান ও কারখানা মালিক কম পারিশ্রমিকে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করে তাদের দিয়ে বিভিন্ন ভারি কাজসহ মহাজনদের কু-কর্মের ভাগিদার বানাচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র পরিবারের বেশিরভাগ শিশু এসব কর্মকান্ডে নিয়োজিত। বিভিন্ন মুদি দোকান, হোটেল রেস্তরাঁ, ওয়েল্ডিং কারখানাসহ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নির্বিঘেœ শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভাবের তাড়নায় অনেক শিশু বাদাম, চকোলেট, দুধ, খেলনা সামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালিয়ে পিতা-মাতাকে সহযোগিতা করছে। ডুমুরিয়া গ্রামের রহিম সরদার সরদারের পুত্র নুরুজ্জামান সরদার (১২), চেঙ্গটিয়া গ্রামের জাকির মিয়ার পুত্র খলিল (১১) কোন রকম কিছুদিন প্রাইমারী স্কুলে যাবার পর তাদের অভাবের কারনে পরাশুনা বাদ দিতে হয় এখন তারা ৬শত টাকার বিনিময়ে ওয়েল্ডিং কারখানায় কাজ করে।
যে বয়সে স্কুলে পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সে তারা দু’মুঠো ভাতের আশায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।
এইচ,এম সুমন
গৌরনদী প্রতিনিধি